শীতে ত্বকের যত্ন

শীতে ত্বকের যত্ন

এই শীতে ত্বকের যত্ন নেবেন কিভাবে ? 

কথায় আছে একটা শীত চলে যাওয়া মানে একটা বসন্ত চলে যাওয়, যত্ন এর অভাব। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। শীতে বাতাস ঠাণ্ডা হওয়ার কারণে আর্দ্রতা কম থাকে। আর্দ্রতা কম থাকার কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্পের শোষণ ক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে ঠাণ্ডা বাতাসে রুক্ষ শুষ্ক ভাব থাকে ,যা সরাসরি প্রভাব ফেলে আমাদের ত্বকের উপর। কোনো মানুষের সাথে পরিচয় করতে গেলে প্রথম ইমপ্রেসন পড়ে আপনার মুখের উপর।

অথবা আপনার সমস্ত ব্যক্তিত্বের ছাপ ফুটে উঠে আপনার মুখের মধ্যে। ভাবুনতো একবার সেই মুখ-মণ্ডলের উপর যদি কালো ছোপ, খোসা ওঠা চামড়া, ব্রণ , ফুসকুড়ি থাকে কেমন লাগে ?

হ্যাঁ শীতকালে ঠিক এই সমস্যা গুলি আপনার মুখের উপর ফুটে ওঠে।তাই এই শীতে ত্বকের যত্ন নেবেন কিভাবে এবং রুক্ষ শুষ্ক আবহাওয়া থেকে কিভাবে ত্বককে বাঁচিয়ে রাখবেন? সে সমস্ত দরকারী তথ্য এই নিবন্ধের আলোচিত বিষয়। 

আলোচিত বিষয় গুলি হল :

  •  ত্বক কি এবং ত্বকের গঠন গত বিভাগ ( What is skin and it’s structure division ?)
  •  ত্বকের প্রকারভেদ অনুযায়ী পরিচর্চা ( Care according to the skin type )
  •  ত্বক ফাটার কারণ গুলি কি কি ? ( What are the causes of skin cracks? )
  •  শীতকালে ঠোঁট ফাটা রোধ করতে কি করবেন? ( What to do to prevent chapped lips in winter? )
  •  শীত কালে ত্বকের যত্ন নেবেন কিভাবে ? ( How to take care of the skin in winter? )

ত্বকের গঠনগত বিভাগঃ

মানব দেহের  বহিরঙ্গের পাতলা আবরণ দ্বারা গঠিত সবচেয়ে বৃহৎ অঙ্গ হল ত্বক (skin)। 

এপিডারমিস ,ডারমিস এবং হাইপোডারমিস তিনটি স্তর দিয়ে এই ত্বক গঠিত হয়। 

এপিডারমিস হল ত্বকের ওপরের স্তর। এইস্তরে লোমকূপ এবং লোম থাকে যা বাইরের ধুলো বালি , জীবাণু ,ব্যাকটেরিয়া , জল, আবহাওয়া প্রভৃতি থেকে দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ গুলিকে রক্ষা করে। শরীর থেকে ঘাম নিঃসরণের মাধম্যে শরীর ঠাণ্ডা রাখে। মিলানসাইটস নামক বিশেষ কোষ থাকে , যার পরিমাণের তারতম্যের হের-ফেরের কারণে মানব দেহের ত্বকের বিভিন্ন রং হয়ে থাকে।এছাড়াও বৃদ্ধ কোষ ধ্বংস করে নতুন কোষ তৈরি করে।

ডারমিস হল ত্বকের মধ্যবর্তী স্তর।কোলাজেন কলা দ্বারা গঠিত।লোমগ্রন্থি, ঘর্মগ্রন্থি ,রক্তনালী ও বিভিন্ন  নার্ভ টিসু থাকে যেগুলি ব্রেনের সাথে যুক্ত থাকে। ঠাণ্ডা-গরম -চাপ-তাপ প্রভৃতি অনুভূতি গ্ৰহন করে ব্রেনকে বার্তা পাঠায়, যার ফলে আমরা এগুলো অনুভূত করতে পারি। 

হাইপোডারমিস ,এটি ত্বকের সবচেয়ে নিম্নবর্তী স্তর।দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সাথে মিশে থাকে।এটি চর্বি যুক্ত হয় , যাতে বাইরের আঘাত থেকে আভ্যন্তরীণ অঙ্গ গুলিকে রক্ষা করে।

  • বংশগত – হরমোনাল পরিবর্তন ও পরিবেশ গত কারণে স্থান ভেদে মানুষের আলাদা আলাদা স্কিন টাইপ ও স্কিন কালার হয়।

ত্বকের যত্ন নিতে হলে ,ত্বকের পরিচর্চা করতে গেলে আপনার ত্বক কোন ধরনের এটা সর্ব প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে।  সেই মত বুঝে যত্ন নিলে সমস্যা থেকে অনেকটাই পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। 

ত্বকের গঠনগত বিভাগ
ত্বকের গঠনগত বিভাগ

ত্বকের প্রকার ভেদ অনুযায়ী পরিচর্চা:

বংশগত ও অন্যান্য বিভিন্ন কারণে আমাদের ত্বক পাঁচ প্রকারের হয়ে থাকে – 

১) নরমাল বা স্বাভাবিক ত্বক

২) ড্রাই বা শুষ্ক ত্বক 

৩) অয়েলি বা তৈলাক্ত ত্বক 

৪) সেনসেটিভ বা সংবেদন শীল ত্বক

৫) কম্বিনেশন বা মিশ্রিত ত্বক 

শুষ্ক ত্বক বা ড্রাই স্কিন 

যাদের ত্বক শুষ্ক ,তাদের শীতকালে বেশি সমস্যা দেখা দেয়।বাইরের রুক্ষ আবহাওয়ার কারণে ত্বক রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়ে যায়। এই সময় ত্বক বেশি করে ডিহাইড্রেট হয়ে যায় , ফলে কালো কালো ছোপ দেখা যায়, ত্বক জ্বালা করে , ত্বকের মধ্যে টান ধরে।যাদের অতিরিক্ত ড্রাই স্কিন তারা খোসার মত চামড়া ওঠার সমস্যায় ভোগে।

তাই শীতকালে অধিক গুরুত্বের সাথে যত্ন নিতে হবে। 

শীতকালে রুক্ষতার কারণে বাইরে বেশি ধুলো ময়লা আমাদের ত্বকের উপর বসে ত্বকের কোষের মুখ বন্ধ করে দেয়।তাই নিয়মিত ক্লিনজিং লোশন কিংবা ক্রিমি ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে ,ওমেগা ফ্যাটিএসিড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত মিল্কিটোনার ব্যবহার করুন। তারপর ক্রিম ব্যবহার করুন। স্নানের পর ময়েশ্চার লাগিয়ে নিন। 

ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় দেখে নেবেন সেটি তেল জাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি কিনা। যেমন জোজোবা তেল ,নারকেল তেল, অলিভ তেল এই জাতীয় কোনো উপাদান থাকবে এবং অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ হলে ভালো হয়।যাদের ড্রাই স্কিন তারা সব সময় ক্রীম জাতীয় বেছে নেবেন।

এছাড়া যখনই হাত-পা মুখ ধোবেন, ধোয়ার পর ক্রীম, ময়েশ্চার লাগিয়ে রাখুন। তাহলে ত্বক রুক্ষ শুষ্ক হবেনা।

তৈলাক্ত ত্বক বা অয়েলী স্কিন যাদের সেবোসিস গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত সেবাম নিঃসৃত হয় তাদের ত্বক তৈলাক্ত হয়।

যাদের তৈলাক্ত ত্বক তারা ভাবেন, ত্বক থেকে তেল বেরোয় তাহলে হয়তো শীতকালে তাদের সমস্যা হবেনা।কিন্তু শীতকালে তাদের ও যত্নের প্রয়োজনআছে। তারা ত্বকের জন্য বেছেনিন অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার।এছাড়াও জলের সাথে গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

স্বাভাবিক ত্বক বা নরমাল স্কিন

স্বাভাবিক ত্বক যাদের তাদের ত্বকের সমস্যা কম হয়। তবে শীতে যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করা, টোনার লাগানো , ক্রীম ময়েশ্চার এগুলো করতে অবহেলা করবেন না। হায়ালুরনিক অ্যাসিড যুক্ত ফেসসেরাম ও স্বাভাবিক ত্বকের ময়েশ্চারাইজার বজায় রাখে , তাই স্বাভাবিক ত্বকের জন্য হায়ালুরনিক অ্যাসিড যুক্ত ময়েশ্চারাইজার বাছুন।

সংবেদনশীল ত্বক বা সেনসেটিভ স্কিন 

সেনসিটিভ স্কিনের জন্য সারা বছরই কিছুনা কিছু সমস্যা লেগেই থাকে, তবুও শীতকালে এক্সট্রা কেয়ার দরকার।শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় কোষের মুখ বেশি করে খুলে যায়, তাই ত্বকের মধ্যে লালচে ভাব, জ্বালাভাব, চুলকানির সমস্যা বেশি দেখা যায়।

শীতকালে আমরা মাফলার, স্কার্ফ , সোয়েটার ,টুপি ইত্যাদি ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে গরম জাতীয় জিনিস পড়েথাকি।কিন্তু যদি আপনার এক্সট্রিমলি সেনসিটিভ স্কিন হলে উল, রেয়ন , নাইলন ,পলিয়েস্টার এই জাতীয় ফ্যাব্রিক ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব দেখা দিতে পারে তাই এই জাতীয় ফ্যাব্রিক বাদ দিয়ে কটনের ফ্যাব্রিক বাছুন।

বাইরে থেকে এলে, বা যখনই মুখে হাত দেবেন প্রত্যেক বার মুখে হাত দেবার সময় অবশ্যই ঈষদ্উষ্ণ গরম জল ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলুন তারপর জেন্টল মেকআপ রিমুভার দিয়ে মেকআপ তুলে নিন।এসেনসিয়াল অয়েল ও প্রাকৃতিক উপাদান যুক্ত  ক্রিম জাতীয় ক্লিনজার ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করুন। তাতে আপনার ত্বক নরম এবং হাইড্রেট থাকবে।

অ্যালকোহল এবং গন্ধ বিহীন টোনার ব্যবহার করুন এতে স্কিনের pH  ব্যালান্স বজায় থাকবে।

ভিটামিন এবং অন্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত সিরাম ব্যবহার করতে পারেন , এতে আপনার ত্বক এক্সট্রা ভাবে পুষ্টিপাবে এবং ত্বকের মধ্যে জল ধরে রাখবে যাতে ত্বক রুক্ষশুষ্ক না হয়।

ফ্যাটিঅ্যাসিড ,জোজোবা অয়েল , গ্রীনটি যুক্ত ময়েশ্চারাইজার বাছুন।

আপনার সেনসেটিভ স্কিনে মরা চামড়া পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি।তাই শীতকালে ফেসওয়াশের সাথে সেনসিটিভ ত্বকের জন্য উপযুক্ত স্ক্রাবার ,ফেস মাস্ক ব্যবহার করুন।

যাদের চোখের তলায় ফোলা ভাব বা ডার্ক সার্কেল আছে তারা আই ক্রিম ব্যবহার করুন।চোখের তলার খুব পাতলা চামড়া থাকে তাই অতিরিক্ত ঘষা লাগলে, বা ড্রাই হলে সহজেই চোখের তলায় কালো ছোপ পড়ে যায়। তাই শীতকালে চোখের তলায় আন্ডার আই ক্রীম ব্যবহার করুন।

আপনার ঠোঁট, হাত, পায়ের জন্য

 কালার ও গন্ধহীন লিপ বাম ,বডিলোশন আপনার সেনসেটিভ ত্বকের জন্য বাছুন।এতে ত্বকে  শুষ্কতা চুলকানি ভাব , ত্বক ফেটে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

কম্বিনেশন স্কিন বা মিশ্রিত ত্বক

প্রধানত তৈলাক্ত এবং শুষ্কভাব দুটোরই কম্বিনেশন স্কিন থাকে। মুখমণ্ডলের, কপাল নাক এবং চিবুক (T zone) পর্যন্ত তৈলাক্ত এবং বাকিটা ড্রাই বা শুষ্ক। বংশগত কারণ ছাড়াও, পরিবেশ গত দূষণ , দৈহিক স্ট্রেস ,হরমোনাল পরিবর্তন ও অন্যান্য কারণেও কম্বিনেশন স্কিন হয়ে থাকে।যেহেতু কম্বিনেশন স্কিন অন্য সব স্কিন থেকে আলাদা ধরনের তাই পরিচর্চা ও যত্ন নেওয়ার সময় আলাদা ভাবে সতর্কতার সাথে ফেসওয়াশ , ক্রীম , ময়েশ্চারাইজার সঠিক ভাবে বাছতে হবে। আর যেহেতু ত্বক দুধরনের তাই একাধিক প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।

আপনার ত্বকের শুষ্ক জায়গায়, গাল (cheeks )  থুঁতনি  (jawline) একটু মোটা এ জন্য ক্রীম জাতীয় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন যাতে আপনার ত্বক আর্দ্র এবং পুষ্টি পায়।

এবং আপনার মুখ মণ্ডলের তৈলাক্ত জায়গায় পাতলা – জল জাতীয় লোশন ,জেল বা তেল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

ঘুম থেকে উঠে সকালের দিকে মুখ থেকে তেল বেরোয় তাই  জেন্টল ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নেবেন।

যদি কাজের জন্য বাইরে থাকেন বা ঘরে থাকেন, সন্ধ্যের দিকে সারা দিনের মেকআপ, ধুলোবালি, সানস্ক্রিন , অথবা রান্নার তেল কালি , মরা চামড়া আপনার ত্বকের মধ্যে জমে থাকে তাই অয়েল জাতীয় ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নেবেন।এরপর কম্বিনেশন স্কিনের জন্য উপযুক্ত ফেসওয়াস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নেবেন। এক্ষেত্রে ক্রীম ক্লিনজার আপনার কম্বিনেশন স্কিনের জন্য উপযুক্ত হবে।

স্কিন টাইপ অনুযায়ী টোনার ,সিরাম ব্যবহার করুন।

সপ্তাহে ২-৩দিন আপনার স্কিন অনুযায়ী ফেস মাস্ক বা স্ক্রাবার ব্যাবহার করুন ত্বকের নীচে জমে থাকা মৃত কোষ দূর করতে।

দিনের বেলায় হালকা লোশন জাতীয় ক্রীম ব্যবহার করুন রাতের দিকে জেল জাতীয় ময়েশ্চার ব্যবহার করুন। 

চোখের নীচে ডার্ক সার্কেল ,ফোলা ভাব দূর করতে আন্ডার আই ক্রীম ব্যবহার করুন।

শীত কালে ত্বক ফাটার কারণ গুলি কি কি ?

শীতকালে কম বেশি সব ধরনের ত্বকের উপর প্রভাব পড়ে। শীতকালে ত্বক ফাটার মূল কারণ হলঃ

আমাদের ত্বকের ডারমিস স্তরে সেবাসিয়াস গ্রন্থি(Sebaceous glands) নামক আণুবীক্ষণিক এক্স ক্রনিক গ্রন্থি আছে , যা থেকে এক ধরনের তৈলাক্ত (মেদ) বা মোমের মত রস নিঃসৃত হয় যাকে সেবাম (sebum) বলে।

সেবাম এর কাজ হল ঘামের সাথে মিশে ত্বকের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।যার ফলে ত্বকের উপর খুব সামান্য চটচটে বিহীন তৈলাক্ত ভাবের একটা পরত থাকে, ফলে ত্বক মসৃণ ও জল রোধী থাকে।

কিন্তু শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকার কারণে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে যায়।চারি দিকে রুক্ষ শুষ্ক হয়ে যায়।তার প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে।শীতকালে ঠান্ডার কারণে আমাদের ঘাম প্রায় হয়না বললেই চলে। এক্ষেত্রে সেবাম নিঃসৃত হয় কিন্তু ত্বকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারেনা।তাই ত্বক রুক্ষ শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে শীতকালে আমাদের ত্বক ফেটে যায়। 

১) এছাড়াও ত্বকের সঠিক যত্ন ও পরিচর্চার অভাবে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

২)  কেমিক্যাল বেসড প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে ত্বকের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তার থেকে ত্বক রুক্ষ শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়।

৩) ক্ষার যুক্ত সাবান ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়।সাবান ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন।

৪) জলের অভাবে, ত্বক ডিহাইড্রেটেড হলেও শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়।

৫) থাইরয়েড ,ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ থাকলে ত্বকের সমস্যায় ভুগতে হয়।

৬) পুষ্টিহীনতা ও ভিটামিনের অভাবে ও ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়।

শীত কালে ত্বকের যত্ন নেবেন কিভাবে?

 শীত কালে ত্বকের এক্সট্রা যত্ন বেশি নিন। সারাদিন একবার মুখ পরিষ্কার যথেষ্ট নয়। যদি বাইরে কর্মরত হয়ে থাকেন, কাজের শেষ বাড়ি ফিরে এসে , অবশ্যই তুলো নিয়ে মেকআপ ক্লিনজার করে তুলেনিন, নাহলে তুলোর মধ্যে অল্প নারকেল তেল নিয়ে মুখের মধ্যে আলতো ভাবে ঘষে মেকআপ তুলে নিন। তারপর আপনি নিয়মিত যে ফেসওয়াস ব্যবহার করেন সেটা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে , টোনার , নাইটক্রীম ,ময়েশ্চরাইজার লাগিয়ে নিন।সঙ্গে হাতে পায়ে ময়েশ্চরাইজার লাগিয়ে নিন।এছাড়াও   অনেক ক্ষন কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে, স্কিন ড্রাই হয়।শীতে আপনার ব্যাগে ক্রীম , লিপবাম , ময়েশ্চরাইজার এগুলো রাখুন। যাদের ড্রাই স্কিন তাদের স্কিনে বেশি সমস্যা দেখা দেয়।

 তাই কাজের ফাঁকে একটু সময় পেলে ওয়াইপস বা তুলোর মধ্যে অল্প একটু ক্লিনজার দিয়ে মুখ মুছে নিয়ে ক্রীম ,ঠোঁটে লিপবাম বা লিপজেল লাগিয়ে নিন।হাতে একটু ময়েশ্চরাইজার লাগিয়ে নিন। তাহলেই ত্বক , ঠোঁট ,হাত ফাটার মত সমস্যা হবেনা।

 শীতকালে যারা পা ফাটার সমস্যায় ভোগেন ,রাতে শুতে যাওয়ার আগে পায়ের তলায় ক্র্যাকহিল ক্রীম , ময়েশ্চরাইজার ,লোশন যার যা পছন্দ লাগিয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন , ব্যস আপনার সারাদিনের যত্ন নেওয়া পরিপূর্ণ।  

 আর যারা হোম মেকার, ঘরেই থাকেন তাদের ও কিন্তু একই ভাবে শীতে ত্বকের যত্ন নিতে হবে।এক বার স্নানের সময় আর রাতে শোবার আগে একই ভাবে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। ফেসওয়াশ, টোনিং, ময়েশ্চরাইজার লাগাতে হবে। 

টাটকা শাক সবজি খান বেশি করে :

শীতে রঙ-বেরঙের টাটকা নানান শাক সবজি পাওয়া যায়। তাই পরিমিত হারে শাক সবজি খান।এতে শরীরের সাথে ত্বকও ভালো থাকবে। শীতে বেশি করে কমলা লেবু খান, এতে ভিটামিন সি থাকে যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। 

সানস্ক্রিন ব্যবহারকরুন:

শীতকালে রোদ পোহাতে আমাদের সবার খুব ভালো লাগে।তাই দীর্ঘক্ষণ রোদে কাটায়।শীত কালে রোদ সবারই প্রিয় হলেও শীতের রোদ বেশি ক্ষতি কর আমাদের ত্বকের পক্ষে। তা বলে কি রোদের তলায় বসবো না ?,অবশ্যই বসবেন।কিন্তু রোদ থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। অনেকেরই এই ভুল ধারণা থাকে, শীতে বোধ হয় সানস্ক্রিনের প্রয়োজন পড়েনা।কারণ শীতে গ্রীষ্মের মত অত প্রখর চড়া রোদ থাকেনা। কিন্তু শীতে ত্বক বেশি ক্ষতি গ্রস্ত হয় তাই আপনার ত্বকের ধরণ বুঝে সঠিক SPF এবং UV প্রটেকশন যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

সেনসিটিভ ত্বকের জন্য মিনারেল যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

বেশি করে জল খান:

অনেকেই শীতে ঠান্ডার ভয়ে জল খেতে চান না ,এটা করবেন না।জলের অভাবে শরীরের গ্যাস-আম্বলে সাথে অন্যান্য সমস্যাতো হবেই, সাথে ত্বক ডিহাইড্রেট হয়ে যাবে, রুক্ষ হয়ে বেশি করে ফেটে যাবে। তাই পরিমিত পরিমাণে জলখান। এতে ত্বক ভালো থাকবে।

নিয়মিত স্নান করুন ,ত্বক পরিষ্কার রাখুন:

শীত কালে অনেকেরই স্নান করতে আলসেমি লাগে আবার অনেকেই স্নান করতে চাননা।

এটা করলে চলবে না ,শীতে রুক্ষ শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বেশি ধুলো বালি ওড়ে।  তাতে আমাদের ত্বক ড্রাই হয়ে বেশি করে ফেটে যায়। তাই শীত কালে ঈষদ্উষ্ণ জলে প্রতিদিন সাবান মেখে স্নান করুন, এতে ত্বকের মরাচামড়া পরিষ্কার হবে , তারপর তেল, ময়েশ্চারাইজার যার যা পছন্দ ত্বক অনুযায়ী অল্প ভেজা গায়ে মেখে নিলেই আর ত্বক ড্রাই হবেনা।যতটা সম্ভব ফুল হাতা জামা পড়ুন। বাচ্চারাতো বাইরে ধুলোবালিতে খেলবেই ওদের ফুল হাতা জামা ফুলপ্যান্ট পড়িয়ে রাখুন।

হিটারের বদলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন :

 শীতকালে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই রুম হিটার ব্যবহার করে থাকেন।হিটারের গরম হওয়া ঘর গরম রাখলেও ত্বককে আরো বেশি ড্রাই করে দেয়। তাই হিটারের বদলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।

ভালো মানের প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করুন:

সব সময় ভালো মানের প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করবেন। কেমিক্যাল থেকে দূরে থাকুন। চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব ব্র্যান্ডেড এবং ডার্মাটলজিক্যালি প্রুফ প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করতে। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী সামগ্রী  ব্যবহার করুন।

এছাড়া ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিতে 

মধুর ব্যবহার করুন:

মধুর মধ্যে অ্যান্টি – ফ্লেমেন্টরি উপাদান থাকে যা ,ত্বকে সানট্যান পড়ার সম্ভাবনা থেকে অনেকটা দূরে রাখে।এছাড়াও মধুতে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাস উপাদান ত্বকের ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।শীতে আপনার ত্বকের যত্নে মধু ব্যবহার করুন। 

 প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন এবার পরিমাণ মত মধু নিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। মধু মুখের ময়েশ্চার ধরে রাখতে  সাহায্য করে। এবার আপনার সময় মতো আধ ঘন্টা , ১৫  মিনিট মতো রেখে ধুয়ে ফেলুন , তবে মধু লাগিয়ে আগুনের সামনে যাবেন না। নিয়মিত কয়েক দিন ব্যবহার করলেই হাতে নাতে ফলাফল পাবেন।

কাঁচা দুধের ব্যবহার করুন:

কাঁচা দুধে ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে যা ত্বকের গভীরে গিয়ে ক্লিনিং – টোনিং – ময়েশ্চারাইজিং এই তিনটি কাজ  একসাথে করে থাকে।  কাঁচা দুধে পরিষ্কার তুলো ডুবিয়ে মুখের মধ্যে ঘষলেই আপনার ত্বক পরিষ্কার হয়ে যাবে।

কাঁচা দুধ ও তুলো নিয়ে এক চামচ দুধ আর এক চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন ,পনেরো মিনিট পর হালকা হাতে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক ভেতর থেকে পুষ্টি পাবে, হারানো জেল্লা ফিরে পাবেন।

শীত কালে ঠোঁটের যত্ন নেবেন কিভাবে ?
শীত কালে ঠোঁটের যত্ন নেবেন কিভাবে ?

শীত কালে ঠোঁটের যত্ন নেবেন কিভাবে ?

আমাদের ঠোঁটের চামড়া খুব পাতলা হয় ,তাই প্রায় সব ঋতুতেই কখনো না কখনো কম বেশি ঠোঁট সবারই ফেটে থাকে।তবে শীত কালে ঠোঁট ফাটার সমস্যা অধিক পরিমাণে দেখা যায়।একতো বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকার কারণে আমাদের শরীরে ঘাম প্রায় হয়না ফলে সেবাম ত্বকের উপর ছড়াতে পারেনা , তারপর আমাদের নাকের নীচে ঠোঁট থাকার কারণে অনবরত গরম নিঃশ্বাস ঠোঁট দুটিকে আরো বেশি শুষ্ক করে তোলে তাই আমাদের ঠোঁট ফাটে।এছাড়াও অনেকের জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নেওয়ার অভ্যাস থাকে, এতে ঠোঁট ফাটা অধিক বেড়ে যায়।

শীতকালে মুখের সাথে সাথে ঠোঁটেরও আলাদা করে যত্ন করতে হবে।ঠোঁট দুটোকে একটু জলে ভিজিয়ে নিন, তারপর নরম ভেজা পরিষ্কার টিসুতে করে আলতো করে ঘষুন দেখবেন ঠোঁটের উপর থেকে মরা চামড়া উঠে আসছে।এরপর ঠোঁটে লিপবাম বা জেল লাগিয়ে নিন। গোলাপের পাপড়ির মধ্যে এক ফোঁটা গ্লিসারিন অথবা মধু নিয়ে ঠোঁটের মধ্যে আলতো ভাবে ঘষুন। নিজেই তফাতটা অনুভব করতে পারবেন। আপনার ঠোঁট দুটো ফুলের পাপড়ির মত কোমল হয়ে উঠবে।

 আয়নায় প্রতিদিন নিজের সাথে নিজেকে ফেস করতে হবে তাই প্রতিদিন নিজেকে এই শীতে ত্বকের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। শীতে যদি ত্বকের সঠিক পরিচর্চা যত্ন নানেন ,সেটার ছাপ সারা বছর আপনার ত্বকে রয়ে যাবে। ত্বক কুঁচকে যাওয়া , কালো ছোপ ,ব্রণ ,ফুসকুড়ির সমস্যা, বয়স বেড়ে যাওয়ার মত সমস্যা আপনার নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়াবে।

তাই প্রতি দিনের কর্ম ব্যস্ততার ফাঁকে এইশীতে ত্বকের যত্ন নিন। আপনার ত্বককে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে দিন ,আপনার ত্বক সদা প্রাণবন্ত থাকবে। 

তথ্যসূত্র

কোরা ,গুগল , honest.com , Britanica,Web MD , thegoodfaceproject.com,almira.com, twitter ওঅন্যান্যব্লগসাইট