মাইগ্রেন কি জানুন-dr-kotha

মাইগ্রেন কি জানুন

 কি উপায়ে মাইগ্ৰেনের ব্যথা থেকে স্বস্তি মিলবে ?

মাইগ্রেন এক বিশেষ প্রকারের মাথা ব্যথা। মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা হয়। মনে হয় মাথার শিরা ছিঁড়ে যাবে ,মাথার মধ্যে কেউ হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছে। মাইগ্রেন অ্যাটাক হলে ব্যক্তি নিঃস্তব্ধ অন্ধকার ঘরে আলাদা থাকতে পছন্দ করেন। আসুন জেনেনি , মাইগ্রেনের ব্যথা আসলে ঠিক কি কারণে হয় ? আর মাইগ্ৰেনের ব্যথা উঠলে ঠিক কি উপায়ে স্বস্তি মিলবে ?

এই নিবন্ধের আলোচ্য বিষয় গুলি হল :

  • মাইগ্রেন কি ? ( What is migraine in Bangla ? )
  • কি কি কারণে মাইগ্রেন হয় ? ( What causes migraine in Bangla? )
  • কতধরনের মাইগ্রেইনের ব্যথা হয় ? ( How many types of migraine pain do you have in Bangla? )
  • কোন বয়সে হয় ,কাদের হয় ? ( At what age, who is it in Bangla? )
  • মাইগ্রেনের ব্যথা উপসম হয় কিভাবে ? ( How does migraine pain relieve in Bangla? )
  • মাইগ্রেনের ব্যথা উঠলে কি উপায়ে স্বস্তি মিলবে ? ( How can migraine pain be relieved in Bangla? )
  • মাইগ্রেনের কি কি চিকিৎসা হয় ? ( What treatment is migraine in Bangla? )
  • মাইগ্রেইনের উপসর্গ বা লক্ষণ ( Migraine symptoms in Bangla )
  • শিশুদের মাইগ্রেন ( Children’s Migraine in Bangla )
  • গর্ভকালীন মাইগ্রেন ( Pregnancy Migraine in Bangla )

মাইগ্রেন  কি ?

 গ্রীকশব্দ  হেমিক্রানিয়া ( ἡμικρανία ) থেকে মাইগ্রেন শব্দের উৎপত্তি।  ἡμι- (হেমি-) = অর্ধেক  κρανίον (ক্রানিয়ন) = খুলি থেকেই  সৃষ্টি। অর্থাৎ মাথার একদিকে ব্যথা , মাইগ্রেইনের ব্যথা সাধারণত মাথার একপাশ থেকে শুরু হয়।

মাইগ্রেন এক ধরনের নিউরোভাস্কুলার ডিজঅর্ডার এই সমস্যা মস্তিষ্কে সৃষ্টি হয়ে, ধীরেধীরে রক্ত শিরায় ছড়িয়ে যায়।মস্তিষ্কের ট্রাইজেমিনাল নার্ভ উত্তেজিত হলে রক্তে সেরোটোনিনের ( রক্তনালিকায় রক্ত প্রবাহে এটি সাহায্য করে ) মাত্রা পরিবর্তিত হলে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। তখন মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা হয়, তাকে মাইগ্রেন এর ব্যাথা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 অতিরিক্ত স্ট্রেস এবং দুশ্চিন্তা বা অন্য কোনো কারণ বশত হঠাৎ করে মাইগ্রেন এর ব্যথা উঠার পূর্বে সেরোটিনিনের মাত্রা হেরফেরের জন্য মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে যায়।যার ফলে মস্তিষ্কের অক্সিপিটাল এবং প্যারাইটাল কার্যকারিতা বিঘ্নিত হয়।তারই প্রতিক্রিয়া স্বরূপ মাথা ব্যথা শুরু হয়।

আবার যখন পুরোপুরি ভাবে মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়, তখন মস্তিস্কের বাইরের ধমণি গুলি ফুলে উঠে  ফলতঃধমনি গুলোর প্রসারণ ঘটে , যা মূলত রক্তের মধ্যে থাকা (5-Hydroxy Tryptamine) উপাদানটি মস্তিষ্কের উপাদানের উপস্থিতির  পরিমাণের উপর নির্ভর করে। (গবেষণারত)

মাইগ্রেনের ব্যথা কতদিন থাকে ?

মাইগ্রেন বা গ্রাম্য ভাষায় আধকপালি ব্যথা একপ্রকার পিরিয়োডিক মাথা ব্যথার অসুখ। 

যখন মাথা ব্যথা হবে টানা ২-৩ ঘণ্টা থাকতে পারে। আবার ২-৩দিন ও থাকতে পারে।আবার পুরোপুরি সেরে গিয়ে মাসে একাধিক বার আসতে পারে ,আবার প্রায় একমাস বা দুমাস পর ফিরে আসতে পারে।

মাইগ্রেনের ব্যথা কি রকম হয় ?

 মাইগ্রেনের ব্যথা মাথার বাঁদিক থেকে সূত্রপাত হয় , ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে হেমিক্রেনিয়াল পেইন ৷ তার সাথে  বমিবমি ভাব, মাথা ঘোরা, আলো ও শব্দে কষ্ট হওয়ার মত উপসর্গ দেখা দেয়৷ 

২০শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় মাথা ব্যথার সাথে সাথে ঘাড়ের মাসল শক্ত হয়ে যায় সঙ্গে ঘাড়েও ব্যথা হয়৷  

মাইগ্রেনের স্টেজ 

এক ধরনের বিশেষ প্রকার মাথা ব্যথা। মাইগ্রেন হেডেকের চারটি ফেজ বা ধাপে হয়।

Stage of migraine
মাইগ্রেনের স্টেজ 

(১)প্রোড্রোমাল ( মাইগ্ৰেন অ্যাটাকের পূর্ববর্তী)

  • মাইগ্রেন অ্যাটাকের আগে হয়- খুব উত্তেজিত , প্রাণবন্ত দেখাবে নয়তো খুব হতাশা আসবে মনের মধ্যে। 
  • মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকবে।
  • বারে বারে জলতেষ্টা পাবে।
  • নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেতে লোভ হবে।
  • ঘুম আসবে না ,একটা অস্থির ভাব মনের মধ্যে কাজ করবে।
  • ঘন ঘন প্রস্রাব পাবে।

(২) অরা 

মাইগ্রেনের তীব্র মাথা ব্যথার কারণে একটা ঘোর ঘোর ভাব ,আচ্ছন্নতার অনুভূতি ঘিরে থাকে।এই অনুভূতিই হল অরা।

তবে অরা যুক্ত এবং অরা বিহীন উভয়ই মাইগ্রেন হতে পারে।

প্রত্যেক তিনজনের মধ্যে একজন অথবা চার জনের মধ্যে একজনের এই মাইগ্রেন অ্যাটাকের আগে এই লক্ষণ গুলি দেখা যেতে পারে। কোনো কিছু দেখার মধ্যে সমস্যা হতে পারে ,ত্বক  সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে , কথা বলার মধ্যে সমস্যা বা জড়তা আসতে পারে।

  •  মাথার এক পাশ দিয়ে  ব্যথা শুরু হয় , সঙ্গে মনে হতে পারে আলোর ঝলকানি দেখা দিচ্ছে , এক টানা আলো একসাথে দপ দপ করে জ্বলছে , তারপরই হঠাৎই একটা কালো অন্ধকার হয়ে গেছে এরক মনে হতে পারে।এই রকম অনুভূতি কয়েক মিনিটও থাকতে পারে ,আবার অনেকটা সময় ধরেও থাকতে পারে।
  • মনে হবে ত্বকের মধ্যে মধ্যে কেউ পিন অথবা সূঁচ ফোটানো হচ্ছে।এছাড়াও একটা অসাড়তা ভাব দেখা দিতে পারে।এই অনুভূতি মুখ এবং হাতের মধ্যে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। 
  • কারোর সাথে এক সাথে বেশি কথা বলতে পারবে না। কথা বলা বা লেখার সময় মনের ভাব প্রকাশ করতে পারবে না।মনের মধ্যে দ্বিধা ভাব কাজ করবে।কোনো কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে পারবে না।    

(৩)অ্যাটাক (সিভিয়ার মাথা ব্যাথা কালীন)

মাইগ্রেন যে পাশে মাথা ব্যথা হবে ,সেটা কয়েক ঘণ্টা থাকতেও পারে আবার কয়েক  দিন পর্যন্ত থাকতেও পারে। সেই সময়  বিশ্রাম করতে ইচ্ছে করবে , যেকোনো  কাজই খুব শক্ত মনে হবে। এই মাথা ব্যথা চোখের উপর থেকে শুরু হয়ে

মাথার এক পাশ থেকে শুরু হবে। তারপর সেটা গোটা মাথায় ছড়িয়ে মাথার এক পাশ থেকে অন্যপাশে আসা যাওয়া করবে।এটা মুখের নিচে ,ঘাড় পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।

বুক ধড় ফড় করার অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

কিছু কিছু গন্ধ ,জোরে আওয়াজ , বেশি আলো এগুলো ভালো লাগবে না।

বমি বমি ভাব দেখা যাবে আবার বমিও হতে পারে 

(৪)পোস্টড্রোমাল (মাইগ্রেন অ্যাটাকের পরবর্তী)

মাথা ব্যথা ছেড়ে গেলে শরীরে প্রচণ্ড ক্লান্তি দেখা দেয় ,একটা অলসতা ভাব দেখা দেয়

প্রচণ্ড দুর্বলতা ,মনের মধ্যে দ্বিধা ভাব কাজ করে।

মাইগ্রেনের প্রকার ভেদ :

 মাথা ব্যথা শুরু হওয়ার লক্ষণ অনুযায়ী মাইগ্রেনকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয় –

ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেন :

 প্রাথমিক কিছু  শারীরিক অসুস্থতা দিয়ে শুরু হয় তারপর মাথা ব্যথা আরম্ভ হয়।যেমন চোখের সামনে তীব্র আলোর ঝলকানি দেখা , হাতে পায়ে মুখের চারপাশে ঝিন ঝিন ধরে যাওয়ার মত অনুভূতি হয়। একপাশ জুড়ে অবশ ,দুর্বলতা ভাব থাকে।এরপর শুরু হয় সেই ভয়ানক মাথা ব্যথা , মাথার একপাশ থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে পুরো মাথায়।এক নাগাড়ে মাথা দপ দপ করে, প্রচুর ঘাম হয় ,সঙ্গে বমি বমি ভাব থাকে।

 অপথালমোপ্লেজিক মাইগ্রেন :

  চোখের উপর থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আলো এক দম সহ্য হয়না ,এমতাবস্থায় দৃষ্টি বিভ্রম হতে পারে।

ব্যাসিলারআর্টারি মাইগ্রেন :

 সাধারণত মাথার পেছন থেকে এই ব্যথা শুরু হয় সঙ্গে একটা মাথা ঘোরার ভাব থাকে।

হেমিপ্লেজিক মাইগ্রেন :

এই মাইগ্রেন এর ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।সারা শরীর জুড়ে একটা অবশভাব থাকে।

 মাইগ্রেন কি কি কারণ এ হয় ?

পুরুষদের তুলনায় মহিলারা মাইগ্রেনের সমস্যায় বেশি ভোগে।মাইগ্রেনের নির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।তবে কতগুলো বিষয়ের উপর ভিত্তি করে মাইগ্রেন হতে পারে।

(১) বংশগত কারণে হতে পারে : পরিবারে বাবার বা মায়ের থাকলে সন্তানের মাইগ্রেন হতে পারে।

(২) হরমোন পরিবর্তনের কারণে হতে পারে: বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের পিরিয়ড চালু হবার পর মাইগ্রেইনের সমস্যা আসতে পারে। মহিলাদের শরীরেই স্ট্রোজেন হরমোনের কারণেই মাইগ্রেনের সমস্যায় বেশি ভোগে।হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে হতে পারে।

(৩) আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে হতে পারে : অনেকক্ষন চড়া রোদের মধ্যে থাকলে হতে পারে , খুব ঠান্ডায় হতে পারে, মেঘলা দিনে হতে পারে।

(৪) অনেক ক্ষেত্রে  মহিলারা জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ ব্যবহার করেন, সে থেকে হতে পারে।

(৫) চোখের গ্লুকোমা থেকেও মাইগ্রেন হতে পারে।

(৬) খাদ্যা ভ্যাসের কারণেও হতে পারে : কিছু কিছু চাইনিজ খাবার থেকে হতে পারে, অ্যালকোহল , ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় , প্রসেসড ফুড , চকোলেট ,দুধজাতীয় খাবার , বেশি নুন যুক্ত খাবার।

(৭) অতিরিক্ত মানসিক চাপ ,দুশ্চিন্তার কারণে হতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুম থেকেও হতে পারে  , আবার কম ঘুম থেকেও হতে পারে।

(৮) আবার গ্যাস অম্বলের সমস্যা থেকেও মাইগ্রেন এর ব্যাথা হতে পারে।

(৯) একটানা অনেকক্ষন কম্পিউটারে কাজ করলে,  টিভি , মোবাইলের সামনে বসে থাকলেও মাইগ্রেইনের ব্যথা হতে পারে।

(১০) তীব্র আওয়াজ ,ডিস্কোর মত লাইট, বা অধিক পাওয়ারের লাইট থেকেও হতে পারে।

বার বার মাইগ্রেন অ্যাটাক থেকে বাঁচতে কি করবেন ?

মাইগ্রেনের ব্যথায় আক্রান্ত হলে ডাক্তারের কাছে অবশ্যই যাবেন। যখন ব্যথা ওঠে তখন যেকোনো , একগাদা আন্দাজে ব্যথা নাশক ট্যাবলেট খেয়ে তখনকার মত ব্যথা চলে গেল, তারপর আর গুরুত্ব দিলেন না , এমন করলে চলবে না।এগুলো আরো মারাত্বক বিপদ ডেকে আনতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাবেন, নিজের আন্দাজে নয়।

মাইগ্রেনের সেল্ফ কেয়ার ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত জরুরি।

 মাইগ্রেনের ব্যথা বার বার কয়েক দিন – সপ্তাহ – মাস পরপর ফিরে আসতে পারে।  তাই অবহেলা না করে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও খাদ্যা ভ্যাসের পরিবর্তন করতে হবে তাহলেই বার বার মাইগ্রেন ফিরে আসা থেকে বাঁচতে পারবেন।

চলুন কি করবেন দেখে নেওয়া যাক :

  • যাদের মাইগ্রেন এর মাথা ব্যথা হয় , তাদের দিনে ৮-১০ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
  • পরিমিত পরিমাণে জল পান করুন।
  • মেডিটেশন , যোগ ,অ্যারোবিক ব্যায়াম এইগুলোয় মাইগ্রেনের ব্যথা ফিরে আসতে রোধ করে।
  • রোদে বাইরে যাওয়ার সময়  সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে ,যদি সেটা টিন্টেড গ্লাসের চশমা হয় খুব ভালো হয়, এতে চোখ আরাম পায়।
  • খুব গরম জলে স্নান করলেও  ,আবার খুব ঠাণ্ডা জলে স্নান করলেও মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে ,সে ক্ষেত্রে যাদের মাইগ্রেন আছে তারা ঈষদ্উষ্ণ জলে স্নান করুন।
  • যাদের আলো শব্দ থেকে সংবেদন হয়, তারা তীব্র আওয়াজ, কড়াগন্ধ (ব্যক্তি বিশেষে ) , বেশি পাওয়ারের আলো আবার খুব কম পাওয়ার আলো থেকে দূরে থাকুন।
  • যাদের গ্যাস অম্বলের সমস্যা আছে , বেশি তেল মশলাদার যুক্ত খাবার , ভাজা ভুজি খাবার খাওয়া চলবেনা  , দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা চলবে না।
  • মাইগ্রেন ব্যথা উঠলে নিঃশব্দে অন্ধকার ঘরে আলাদা ঘরে বিশ্রাম করুন।মাথায় বরফ নিলে আরাম বোধ হয়।ঘাড়ের মাসল শক্ত হয়ে গেলে হট ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন ,আরাম পাবেন।

মাইগ্রেনের ব্যথা উঠলে কি উপায়ে স্বস্তি মিলবে ?

এছাড়াও কিছু মিউজিক থেরাপি ,আকুপাংচার , ঘ্রাণ চিকিৎসায় মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে উপশম পাওয়া যায়।

 GRAINOUT Headache Reliver Aroma Therapy (Keya Seth)  এমনই একটি কার্যকরী ওষুধ, এটি সেবন করতে হয় না , শুধু মাত্র নিয়মিত এর গন্ধ নিলে মাইগ্রেন থেকে চিরতরে মুক্তি মিলতে পারে।

পরিষ্কার টিসু পেপার বা রুমালে ৮-১০ফোঁটা নিলে স্পাইনাল কড সোজা করে বসে ৮-১০মিনিট পর্যন্ত নাকের কাছে অনেকটা বুক ভরে নিঃশ্বাস নিন। তৎক্ষণাৎ আরাম পাওয়া যাবে। 

দিনে দুবেলা সকালে ঘুম থেকে ওঠে এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে টানা ৩-৪মাস এটা করতে পারলে সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।যাদের মাইগ্রেন আরো দীর্ঘ সময় ধরে আছে ,তাদের আরো বেশি দিন এটা ব্যবহার করতে হবে।

এটির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বড়রা বাচ্চারা সবাই এটি ব্যাবহার করতে পারবে।

শিশুদের মাইগ্ৰেনের ব্যথা

 মাইগ্ৰেনের মাথা ব্যথা সহ্যের বাইরে।যেটা বড়দের পক্ষেই সহ্য করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে ,সেটা যদি শিশুদের হয় তাহলে যে সেটা কি পরিমাণ কষ্টকর সহজেই অনুমেয়।    

আপনার বাচ্চা এইতো একটু আগেই খেলাধুলা করছিল বা পড়ছিল বা অন্যকোনো কাজ করছিল হঠাৎ করে মাথা ব্যথা বা বমি ভাব। কিংবা দিব্যি এতক্ষন খেলাধুলা করছিল পড়তে বসলেই মাথা ব্যথার কথা বলে।মনে করছেন যাতে পড়তে বসতে না হয় তাই হয়তো বাহানা করছে। ডাক্তাররা বলেছেন তাহলে এখনই সাবধান হওয়া উচিত।এগুলো মাইগ্রেনের লক্ষণ হতে পারে।

How many types of migraine pain do you have in Bangla?
মাইগ্রেনের ব্যথা কি রকম হয় ?

লক্ষণ বা উপসর্গ গুলি কি কি ?

ছোটদের মাইগ্রেনের বিশেষ কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ছ’মাস থেকে দেড় বছরের শিশুদের মধ্যে পেটে ব্যথা হয়, সঙ্গে বমির প্রবণতা রয়েছে অথচ নির্দিষ্ট কোনও রোগ ধরা পড়েনা ,পরবর্তী কালে তাদের অধিকাংশেরই মাইগ্রেন শনাক্ত হয় ৷ একে‘প্রিমনিটরি সিম্পটম’ বলে৷

আবার একটু বড় বাচ্চা বা স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মাথা ব্যথার সাথে অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে  মাইগ্ৰেনের অ্যাটাক দেখা যায়।শিশুদের মধ্যেও অরাযুক্ত এবং অরাবিহীন মাইগ্রেন দেখা দিতে পারে।

১)  ঝাঁকুনি দিয়ে মাথা ব্যথা শুরু হয়। একটানা ১-৪  ঘন্টাও থাকতে পারে আবার ২-৩দিনও থাকতে পারে। সাথে বমি বমি ভাব , আলো ,আওয়াজ সহ্য হয় না। এছাড়াও যেকোনো কাজকর্ম করলে যেমন – হাঁটাচলা , দৌড়ানো , সিঁড়ি বেয়ে ওঠা ব্যথা বাড়তে পারে।

২) অরাযুক্ত মাইগ্রেনে মাথা ব্যথার সাথে মনে হয় তীব্র আলোর ঝলকানি দেখা দেয়।

৩)  মনে হয় যেন ত্বকের মধ্যে পোকা মাকড় হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে।একটা ঝিন ঝিন ধরার মত ভাব সাথে অসাড়তা দেখা যায়।

৪) আবার অনেক ক্ষেত্রে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সব শুনতে পায়।লোক মুখে প্রচলিত একে  ‘বোবায় ধরা’ বলা হয়।

৫)  এছাড়াও অনেকের ক্ষেত্রে মাথা ঘোরানো, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হাঁটতে গিয়ে হেলে পড়া, পেটেব্যথা, অবশ হয়ে যাওয়ার মত অনুভুতি এসবও মাইগ্রেনের মধ্যে প্রকাশ পায়।

শিশুদের মধ্যে অরাবিহীন মাথা ব্যথা বেশি দেখা যায়।এই ব্যথা মাথার দুপাশ দিয়েও হতে পারে।

  • বমি বমি ভাব সঙ্গে পেটে খিঁচুনি
  • প্রচণ্ড ঘাম হওয়া সঙ্গে তেষ্টা পাওয়া
  • সব সময় বাচ্চার মধ্যে ঝিমানো ভাব
  • চোখের তলায় কালি পড়া 

এইসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

কি কি কারণ এ মাইগ্রেন অ্যাটাক হয় ?

  • মস্তিস্কে সেরোটোনিনের অভাব।
  • পড়াশোনা ও পাশাপাশি অন্যান্য অ্যাকটিভিটির জন্য অত্যধিক মানসিক চাপের কারণে হতে পারে।
  • কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে হতে পারে 
  •  ঘুম অপর্যাপ্ত হলে মাইগ্রেনের অ্যাটাক হতে পারে।
  • কম জল খাওয়ার কারণে হতে পারে।
  • অত্যধিক মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (এমএসজি) যুক্ত খাবারের কারণে 

শিশুদের  মাইগ্রেন অ্যাটাক হলে কি করণীয় ?

  • শিশুদের মাইগ্রেনের মাথা ব্যথা উঠলে শিশুটিকে বাঁদিক করে, সদ্যো জাত বাচ্চার মত গুটিয়ে শুইয়ে রাখতে হবে। 
  • দরকারে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যথা উপসম কারী ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। 
  • এছাড়া যে সমস্ত খাবার ,পারিপার্শ্বিক পরিবেশ , তীব্র আওয়াজ , খুব বেশি আবার খুব কম দুই পাওয়ারের আলো থেকে মাইগ্রেনের ব্যথা ওঠে সেখান থেকে দূরে রাখতে হবে।

 আপনার বাচ্চার মাইগ্রেন থাকলে কি করবেন ?

অনেক সময় মাথায় কোনো কারণে আঘাত পেলে ,মস্তিষ্ক সংক্রান্ত অন্য কোন সমস্যা থাকলে, প্রদাহ হলে , ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্বরূপ , চোখ বা সাইনাসের সমস্যার জন্যও মাথা ব্যথা হতে পারে। কিন্তু সেগুলো মাইগ্রেন নয়।

১।স্কুলে থাকা কালীন আপনার সন্তান কি মাথা ব্যথা ,পেটব্যাথা  বা অন্য সমস্যা হলে শিক্ষককে জানাতে ভয়পায় ? তাহলে অবশ্য আপনার বাচ্চার এই সমস্যা গুলি নিয়ে শিক্ষকের সাথে খোলাখুলি কথা বলুন।

২।আপনি হয়ত জানেনই না যে আপনার  বাচ্চার মাইগ্রেনের সমস্যা হচ্ছে বা আছে।বাচ্চার এই সমস্যা গুলিকে অহেতুক দুষ্টামি, বাজে অভ্যাস, না পড়ার বাহানা বলে উড়িয়ে দিবেন না।বাচ্চার কথাকে গুরুত্ব দিন।

৩।দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা ,শরীর ডিহাইড্রেশন হয়ে যাওয়া , ঘুম কম হওয়া এগুলো মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে বাচ্চার ব্যাপারে অভিভাবকদের বেশি সচেতন হতে হবে।

৪।প্রচুর জল খাওয়ানো, নিয়মিত শরীরচর্চা ,মেডিটেশন , স্বাস্থ্যকর খাওয়া দাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই জরুরি ,এগুলো মাইগ্রেন ব্যথা ফিরে আসার প্রবণতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

৫।পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম অত্যন্ত জরুরি।এছাড়াও দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ,টিভিদেখা , কম্পিউটার , গেমস খেলা এগুলো থেকে যত সম্ভব দূরে থাকতে হবে।

 ৬।  ফাস্টফুড ,ভাজা ভুজি জাতীয় খাবার ,সফ্টড্রিঙ্কস, অতিরিক্ত তেল মশলা যুক্ত খাবার , চকলেট, দুধজাতীয় খাবার এগুলো বাদ দিতে হবে।

গর্ভাবস্থায় মাইগ্ৰেন 

ইস্ট্রোজেন হরমোনের তারতম্যের ফলে মহিলাদের মাইগ্রেনের সমস্যা অধিক দেখা যায়।

মহিলাদের গর্ভধারণকালীন মাইগ্রেনের প্রকোপ সাধারণত বেশি দেখা যায়না।তবু যেসব মহিলাদের সিভিয়ার মাইগ্রেন অ্যাটাক হয় ,তারা যদি প্রেগন্যান্সি প্ল্যান করে থাকেন, অবশ্যই ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিতে হবে।মাইগ্রেনের জন্য যেসব ওষুধ খান , গর্ভরত অবস্থায় সেই সব ওষুধ মা এবং বাচ্চার ক্ষেত্রে মারাত্বক প্রভাব ফেলতে পারে , তাই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি।গর্ভরত কালীন‌ মহিলাদের মাইগ্রেনের প্রকোপ অত্যন্ত বেশি দেখা যায় , তাহলে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

  • গর্ভবস্থায় ওই সময় কালীন  হরমোননিঃসরণএরকারণেমাইগ্রেনহয়েথাকে।
  • এছাড়াও স্নায়ু পথ পরিবর্তন, মস্তিষ্কের কেমিক্যাল (সেরোটিনিনের) ভারসাম্য নষ্ট হওয়া  মস্কিষ্কের রক্ত সংবহন বেড়ে গেলেও মাইগ্রেন দেখা দিতে পারে৷
  •  এছাড়াও অতিরিক্ত কাজের চাপ , মানসিক চাপ , ক্লান্তি, চড়া আলো, অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পরিবেশের কারণেও মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে৷
  • এছাড়াও রক্তে শর্করার পরিমাণ কম হলে , মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে ধৈর্য্যের সাথে মেডিটেশন – যোগ ,জীবন যাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আনুন , তাহলেই মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। 

তথ্যসূত্র:

উইকিপিডিয়া , Web MD ,প্রথমআলো , বর্তমানপ্রতিদিন , ইউটিউব ,বিকাশপিডিয়া ,দৈনিকইনকিলাব,