শীতকালে পা ফাটা ও পায়ের যত্ন, পায়ে কর্ন হলে কি করবেন, ক্যালুসেস হলে কি করবেন, হাজা বা অ্যাথলেট ফুট হলে কি করবেন!

পা ফাটা ও পায়ের যত্ন

শীতকালে পা ফাটার সমস্যার  কিভাবে সমাধান করবেন ?

শীতকাল মানেই উৎসবের মৌসুম । পিকনিক , বিয়েবাড়ি , বড়দিন , পার্টি , ছুটির আমেজ সাথে দেদার মজা। সঙ্গে স্টাইলিশ সাজ-গোজ  আর ট্রেন্ডি পোশাক । মাথা থেকে পুরোটায় সুন্দর সাজগোজ সঙ্গে মানানসই পোশাক পরে আপনি দিব্যি ফিটফাট। কিন্তু আপনার সুন্দর পোশাকের নিচে একজোড়া ফাটা গোড়ালি , গোড়ালির চারপাশের ফাটায় জমে থাকা কালো নোংরা , পায়ের পাতায় জায়গায় জায়গায় কালো কালো ছোপ , খসখসে ত্বক উঁকি দিচ্ছে। তাহলে আপনার পুরো সাজটায় মাটি হয়ে যায়। এজন্য পা ফাটা ও পায়ের যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তাই শীতে শরীরের অন্যান্য অংশের সাথে পা এর যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এই শীতের রুক্ষ শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে কিভাবে পা ফাটা থেকে দূরে থাকবেন। যা কিছু কাজ করতে যান না কেন পা ছাড়া চলবে না । কিন্তু চিন্তার কোনো কারণ নেই , এই নিবন্ধে শীতে পা ফাটা ও পায়ের যত্ন করবেন এবং পা কিভাবে ভালো রাখবেন সেই বিষয়ে আলোচনা করব। 

এই নিবন্ধের আলোচিত বিষয়গুলি হল :

  • শীতকালে পা ফাটার কারণগুলি কি কি ? ( What are the causes of foot cracking in winter? in Bangla )
  • শীতে পা ফাটা কিভাবে রোধ করবেন ? ( How to prevent foot cracking in winter? in Bangla )
  • শীতকালে পা এর যত্ন নেবেন কিভাবে ? ( How to take care of the feet in winter? in Bangla)
  • পা ফাটার কারণে কি কি অসুবিধা হয় ? ( What are the problems due to cracked feet? in Bangla )
  • ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে পেডিকিওর করবেন ? ( How to do a pedicure at home? in Bangla)
  •  ক্যালুসিস কর্ন অ্যাথলিট ফুট  কি  ? ( What is Calcium Corn Athlete’s Foot? in Bangla )

পায়ের গোড়ালির চারপাশে চামড়া মোটা এবং শীতকালের রুক্ষ শুষ্ক আবহাওয়ায় আমাদের ত্বকের উপর টান পড়ে , ফলত পায়ের ফুট প্যাডের উপরেও চাপ পড়ে , ফলে পায়ের চামড়া ফেটে যায়।

শীতকালে পা ফাটার সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন , পায়ে কর্ন হলে কি করবেন, ক্যালুসেস হলে কি করবেন, হাজা বা অ্যাথলেট ফুট হলে কি করবেন!

শীতকালে পা কেন ফাটে ?

 শীতকালে পায়ের গোড়ালি ফাটা , পায়ের তলার চামড়া মাছের আঁশের মত ফেটে যাওয়া , খোসার ছড়ানোর মত চামড়া ওঠা এগুলো শীতকালীন  সাময়িক ও অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। মহিলা পুরুষ , বয়স্ক মানুষেরা এই সমস্যায় ভুগে থাকেন । তবে মহিলাদের মধ্যে পা ফাটার সমস্যা অধিক দেখা যায় । ত্বকের শুষ্কতার কারণেই পা ফাটে । তবে ত্বকের রুক্ষতা শুষ্কতা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে । শীতকালে রুক্ষ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় আমাদের ত্বক শুষ্ক হয়ে টান ধরে তখন আমাদের ত্বকে ফাটল ধরে।

১।    আমাদের পায়ের তলায় কেবল মাত্র ঘর্ম গ্রন্থি আছে , কোন তৈল গ্রন্থি নেই ,তাই পায়ের তলা শুষ্ক হয়। শীতের ঠাণ্ডা। আবহাওয়ায় ঘাম  হয় না ,তাই শুষ্ক হয়ে পা ফাটে।

২।    শরীরে ভিটামিন B3 ,ক্যালসিয়াম , জিঙ্ক ,আয়রনের ঘাটতি হলে ত্বকের শুষ্কতার জন্য পা ফেটে যায়।

 ৩।   জল কম খাওয়ার কারণে শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পায়ের গোড়ালি , পায়ের তলার চামড়া ফাটে।

 ৪ ।  শরীরে পুষ্টির অভাব হলে ত্বক খসখসে হয়ে যায় ,ফলে পা ফাটে ।

 ৫।  শীতকালে বাতাসে ধুলো ময়লা বেশি ওড়ে । সেটা আমাদের ত্বকের মধ্যে বসে। দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতার এভাবে জমে থাকা ধুলো ময়লা ত্বকের কোষের মুখ বন্ধ করে দেয় । এই জমে থাকা  ধুলো ময়লা এবং ত্বকের মৃত চামড়া জমে ত্বক শুষ্ক হয়ে পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যা দেখা যায়।

৬।  শীতকালের ঠাণ্ডা আর্দ্র আবহাওয়ায় গোড়ালি খোলা স্যান্ডেল পড়লে ঠান্ডায় পা শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। জুতো স্যান্ডেলের  ফুট রেস্ট শক্ত হলে পায়ের উপর চাপ পড়ে যার ফলে পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়। 

 ৭। শীতকালে কখনোই অতিরিক্ত গরম জলে স্নান করা উচিত নয়, অতিরিক্ত গরম জল

ত্বক শুষ্ক করে দেয় , ফলে  পা ফাটার সমস্যা হয়।

৮।  ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে ,ত্বক শুষ্ক হয়ে পা ফাটে ।

এছাড়াও কিছু শারীরিক রোগের জন্যও পা ফাটার সমস্যা দেখা দেয় । যেমন: 

১) যাদের থাইরয়েড আছে , থাইরয়েড হরমোনের মাত্রার তারতম্যের ফলে ত্বক এমনিতেই শুষ্ক হয়। শীতকালে সেই সমস্যা অধিক গুণ বেড়ে যায় , ফলে পা ফাটে।

২) এছাড়া যাদের ডায়াবেটিস রোগীদের স্নায়ুজনিত সমস্যার কারণে পায়ের আর্দ্রতা নষ্ট পা ফাটে। ত্বকে ঘা বা গ্যাংগ্রিন হয়ে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। সেখান থেকে ত্বক খসখসে হয়ে ফাটার সমস্যা দেখা যায়।

৩) এছাড়াও একজিমা , সিরোসিস , চর্মরোগ থাকলেও শরীরের অন্যান্য অংশের সাথে পা ফেটে যায়।

৪) মহিলাদের মেনোপজের পর কেরাটোডারমা  ডিসঅর্ডার এর কারণে শরীরের অন্যান্য অংশের সাথে পা ফাটার সমস্যাও দেখা যায়।

৫) ওবেসিটি বা স্থূলতার কারণে শরীরের অতিরিক্ত  ভর পায়ের উপর পড়ে , সেক্ষেত্রে শরীরের অতিরিক্ত ভর পায়ের গোড়ালি সহ্য না করতে পেরে পা ফেটে যায়।

পা ফাটার কারণে কি কি অসুবিধা  হতে পারে  :

১।   পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে খসখসে হয়ে যায় , পায়ের ত্বকের রঙের পরিবর্তন হয়ে কালো হয়ে যায় । এছাড়াও আঙ্গুলের গাটে গাটে কালো কালো ছোপ পড়ে যায়। 

২।  পায়ের নখের চারপাশে ,আঙ্গুলের মাথার উপর চামড়া খসখসে হয়ে খোসার মত ওঠে ।

৩।  পায়ের গোড়ালি , পায়ের তলা ফেটে যাওয়ার কারণে ব্যাথা হয় ,ফলে হাঁটতে চলতে অসুবিধা হয়।

৪।  পায়ের তলার চামড়া মাছের আঁশের  মত বড় বড় অর্ধ গোলাকার হয়ে ফেটে যায়।

৫।  গোড়ালিতে চুলকানি হয়।

৬।  পায়ের গোড়ালি , পায়ের পাতার নীচে থেকে মোটা চামড়ার ফাটা অংশ থেকে রক্ত পড়ে।

শীতকালে পায়ের যত্ন নেবেন কিভাবে ?

শীতে প্রতিদিনের নিয়মিত একটু পায়ের যত্ন নিলেই , পা ফাটার সমস্যা থাকবে না ।

শীতকালে পা ফাটা ও পায়ের যত্ন, পায়ে কর্ন হলে কি করবেন, ক্যালুসেস হলে কি করবেন, হাজা বা অ্যাথলেট ফুট হলে কি করবেন!
  • এসময় যারা বাইরে কর্মরত তারা তো বাইরে মোজা জুতো বা অফিস সু পড়ে থাকেন । কিন্তু যারা বাড়িতে থাকেন , তারাও পা পরিষ্কার করে ক্রীম লাগিয়ে মোজা  পরুন।
  • প্রতিদিন গরম জলে শ্যাম্পু দিয়ে পা পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার বা ফুট ক্রীম । আর  সপ্তাহের শেষে একদিন পায়ে স্ক্রাবার বা প্যাক ব্যবহার করুন । প্রতিদিন  রাতে কিন্তু পায়ের তলায় ময়েশ্চারাইজার বা ফুট ক্রীম ব্যবহার করুন , তাহলেই শীতকালে পা ফাটার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন ।
  • শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় পায়ের চামড়া একটু মোটা হয়। পা ফাটা রোধ করতে নিয়মিত পা এর গোড়ালি স্ক্রাব করা প্রয়োজন। এতে পা এর জমে থাকা মৃত চামড়া পরিষ্কার হয়। স্নানের সময় ক্ষারবিহীন সাবান বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করার সময় গোড়ালি একটু পিউমিক স্টোন ঘষে নিন। স্নান শেষে পরিষ্কার  তোয়ালে দিয়ে  পা মুছে 

গোড়ালি ও পায়ের পাতা ,পায়ের তলায় ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন । এটা প্রতিদিন করতে পারলে পা ফাটা ধারে কাছেও আসবে না।

  •  গোড়ালি ও পায়ের পাতা , পায়ের তলায় পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্লিসারিন মেখে মোজা পড়ে নিন। পায়ে ধুলোবালি ও লাগবে না , মেঝেতে হাটতে চলতে গেলে মেঝের সাথে পায়ের পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্লিসারিন লাগবে না । সারাদিন পা নরম থাকবে।
  •  রাতের বেলা ঘুমানোর আগে গামলার মধ্যে ঈষদ্ উষ্ণ জলে সামান্য নুন দিয়ে ১০-১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রেখে তুলে নিন। এতে পা নরম থাকবে।

এবার পরিষ্কার তোয়ালে বা গামছা দিয়ে পা মুছে পায়ের ক্রীম বা মোটা কোনো ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে দেখবেন সারাদিন পা নরম থাকবে।

  • মধু প্রাকৃতিক উপায়ে পা ফাটা সারাতে কাজ করে। মধুর মধ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল  উপাদান আছে যেটা ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং আহত স্থান তাড়াতাড়ি ভরিয়ে তোলে। পা জল থেকে তুলে তোয়ালে করে মুছে নিয়ে পায়ের মধ্যে মধু লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন । তাই শীতে পায়ের যত্নে মধু লাগান।
  •  নারকেল তেলের মধ্যে অ্যান্টি ইনফ্লেমেন্টরি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে যা পা ফেটে রক্ত পড়া বন্ধ করে এবং ইনফেকশন সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে । স্ক্রাবার দিয়ে পা পরিষ্কার করে নারকেল তেল দিয়ে পা ম্যাসাজ করুন।
  • ভিনেগারের মধ্যে পা ডুবিয়ে রেখে অলিভ অয়েল ,ভেজিটেবল অয়েল , শিয়া বাটার পায়ের মধ্যে লাগান। পায়ের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে , পায়ের পরিচর্চার এগুলো ব্যবহার করুন।
  • এছাড়াও  প্যারাফিন মোম ও নারকেল তেল মিশিয়ে ফুট ক্রীম বানিয়ে পায়ে লাগাতে পারেন । প্যারাফিন মোম পায়ের ময়েশ্চার ধরে রাখবে , নারকেল তেল পায়ের  রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখবে। 
  • অ্যালোভেরা ত্বকের জন্য অত্যন্ত জরুরি এতে ভিটামিন A, C , এবং E ,  থাকে। পা হালকা গরম জলে পরিষ্কার করে নিয়ে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন ,সকালে গরম জলে পা ধুয়ে নিন । পা ফাটার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
  • শীতে  পিপ টো, ব্যালেরিনা, মোজরি বা পাম্প শুর উপর আস্থা রাখুন ,এতে পা ও ঢাকা থাকবে ,ঠাণ্ডা থেকে আরামও পাবেন । সাথে পা ফাটার সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে। 
  • ভিটামিন E ট্যাবলেট থেকে লিকুইড টা বের করে পেট্রোলিয়াম জেলীর সাথে ভালো করে মিশিয়ে নিন , এটা ফুট ক্রীম হিসেবে  পায়ের জন্য খুবই কার্যকারী ।  যাদের হাতের তালু ফাটার সমস্যা আছে তারাও এটা লাগাতে পারেন।

পা এর  ক্যালুসেস ( Calluses ) হলে  কি করবেন ?

অনেকসময় টাইট ফুট ওয়ার ব্যাবহার , দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটা চলা করলে আঙ্গুলের মাথা বা সাইড ফ্যাকাসে হলুদ রঙের মোটা চামড়া জমে যাকে  ক্যালুসেস বলে । পা দুটো গরম জলে অল্প নুন মিশিয়ে ডুবিয়ে রাখুন ,কিছুক্ষন পর পিউমিক 

 স্টোন দিয়ে হালকা ভাবে ঘষলেই পুরু চামড়া উঠে আসবে। তারপর পায়ের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

অনেক সময় ব্লেড, রেজার কাইচি দিয়ে পায়ের শক্ত মোটা চামড়া কাটা , হাতে করে টেনে চামড়া তোলার অনেকের অভ্যাস থাকে ,এটা করবেন না , পরবর্তীকালে  ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকে।

  পা’য়ে হাজা বা অ্যাথলিট ফুটের সমস্যা হলে কি করবেন ?

অ্যাথলিট ফুট এর সমস্যা থাকলে পা ফাটে । পায়ের তলায় এবং আঙ্গুলের মাঝখানে ইনফেকশন কে অ্যাথলিট ফুট বা হাজা বলে । চুলকানি , আঁশের মত  চামড়া ওঠা মত সমস্যা হতে থাকে । তবে অনেকক্ষেত্রে লালচে ভাব , আঙ্গুলের লাইন বরাবর ফেটে যাওয়া , সঙ্গে প্রতিনিয়ত একটা ব্যথা অনুভূত হয় ।

দীর্ঘ ক্ষণ জুতো মোজা পড়ে থাকা এবং অতিরিক্ত পা ঘামার জন্য , বেশি জল ঘাটলে এবং ভিজে , স্যাঁতসেঁতে জায়গায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বা কাজ করলে  এই সমস্যা হয়ে থাকে। 

বেশিরভাগ পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হয়ে থাকে। সারাক্ষণ জুতো মোজা পড়ে থাকার ফলে পায়ে ঘাম জমে। আঙুল জোড়া হয়ে চাপা থাকে ফলে এই সমস্যা হয়।

পরিষ্কার রোজ কাচা সুতির মোজা পড়ুন। বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে বাথসল্ট  দিয়ে রোজ পা পরিষ্কার করুন । রাতে শোবার সময় ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ঘুমোতে যান। এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। এভাবে পা ফাটা ও পায়ের যত্ন নিতে পারেন ।

পায়ে কর্ন এর সমস্যায় কি করবেন ?

পায়ের আঙুলের নিচের চামড়ায় , পায়ের সোল প্যাড এ , আঙ্গুলের মাঝখানে জায়গায় জায়গায় গোল করে পায়ের তলার চামড়া শক্ত হয়ে ফুলে উঠে , একে  কর্ন বলে।  হাঁটতে চলতে গেলে পায়ে চাপ পড়ে ব্যথা হয় । এর থেকে পা এর তলার চামড়া ফেটে যায়। কর্ন সরানোর মলম পাওয়া যায় , সেটি নিয়মিত লাগলেই সেরে যায়। এছাড়াও  কর্ন ক্যাপ ব্যান্ডেড পাওয়া যায় ,যেটা লাগলেও সেরে যায় । ব্যান্ডেড লাগলে কর্ন এর শক্ত পুরু চামড়া উঠে গিয়ে নতুন করে নরম পাতলা সেই জায়গাটিকে ভরাট করে দেয়। যেটা পছন্দ লাগাতে পারেন। তবে কর্ন কে অবহেলা করে ফেলে রাখবেন না । এটি দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে গোটা পায়ে আসতে আসতে ছড়িয়ে পড়বে। যা থেকে পরবর্তী কালে হাঁটা চলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

দীর্ঘদিনের পা ফাটার সমস্যা থেকে  পরিত্রাণ মিলবে কি উপায়ে  ?

দীর্ঘদিন ধরে পায়ের ক্রীম , লোশন ব্যবহার করার পরও পা ফাটার সমস্যা লেগেই থাকে সারা বছর তাহলে বুঝতে হবে শারীরিক অভ্যন্তরীণ কিছু ঘাটতি রয়েছে । যার কারণে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ছে । তাই পা ফাটার সমস্যা যাচ্ছে না ।

এক্ষেত্রে ভিটামিন B3 বা নায়াসিন এর অভাব হলে ত্বক ফাটার সমস্যা হতে পারে । কি করে বুঝবেন B3 অভাব হচ্ছে ? এক্ষেত্রে সাধারণ কিছু সাধারণ জিনিস যা আপনাকে নিত্যদিন ফেস করতে হয় যেমন –  আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা তৈরি হবে ,সাধারণ দুর্গন্ধও  সহ্য করতে পারবে  না ,  দুশ্চিন্তা , ডিপ্রেসন ,স্মরণ শক্তি কমে আসা ।

কি কারণে শরীরে ভিটামিন B3 ঘাটতি হয় ?

 আপনি প্রতিদিন যে খাবার খাচ্ছেন তাতে B3 অভাব। অথবা এমনও হতে পারে যে আপনি যেসব খাবার প্রতিদিন খাচ্ছেন তাতে ভিটামিন B3 তো আছে পরিমাণে কিন্তু সেটা আপনার শরীর শোষণ করতে পারছে না ।

বাদাম , দুধ , মুরগির মাংস , পাঁঠার মাংস , টমেটো প্রভৃতি খাদ্যে ভিটামিন B3 ভরপুর মাত্রায় থাকে। তবে যদি নিতান্তই সরাসরি ভিটামিন B3 ট্যাবলেটের প্রয়োজন পড়ে , সরাসরি খাবেন না , অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন ,না হলে এর অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

এক্ষেত্রে IBR এর সমস্যা থাকলে  GI ট্র্যাক এর সমস্যা থাকলে , দীর্ঘদিন ডায়রিয়ার সমস্যা থাকলে , দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ খেলে B3 শোষণ ক্ষমতা লোভ পায়।

শীতকালে পা ফাটা ও পায়ের যত্ন কি করবেন ?

আমাদের গ্রীষ্ম প্রধান দেশ , বেশিরভাগটাই গরম । দুই থেকে তিনমাসের ঠান্ডায় আমরা কাবু হয়ে যায় , সাথে  রুক্ষ শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ফাটার সমস্যা দেখা দেয় । আমরা মুখ ,হাতের যত্ন নি ,কিন্তু পায়ের বেলায় অবহেলা করি তাই পায়ের ফাটার এত সমস্যা হয়। 

যারা ফি বছর শীতকালে পায়ের গোড়ালি ফাটা , পায়ের তলার চামড়া ফাটা, মোটা মোটা চামড়া খোসার মত ওঠা , ফাটার অংশ থেকে  রক্ত পড়া , জ্বালা করা , হাঁটতে ব্যথা হয় এই জাতীয় সমস্যায় ভোগেন ,তারা শীত পড়ার শুরু থেকেই ,যখন ত্বকের মধ্যে টান টান ভাব দেখা যায় ,তখন থেকেই যদি প্রতিদিন সামান্য একটু পায়ের যত্ন নিন তাহলে শীতে এই সমস্যায় পড়তে হবে না । 

এক্ষেত্রে নারকেল তেল খুবই কার্যকরী পায়ের জন্য। এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে । একটি পরিষ্কার পাত্রে নারকেল তেল , অলিভ ওয়েল এবং ল্যাভেন্ডার অয়েল সম পরিমাণে মিশিয়ে রাখুন ।

রাতে হালকা গরম জল দিয়ে পা পরিষ্কার করে নিয়ে এই মিশ্রণটি পরিমাণ মত কয়েক ফোঁটা নিয়ে পায়ে মেখে নিন , সারা রাত রেখে সকালে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে পায়ের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। এই মিশ্রণটি শীতের শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবহার করলে শীতে পায়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন।

এছাড়াও রাতে  শোবার আগে পা পরিষ্কার করে প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন , সকালে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন , এতেও পা সারাদিন নরম থাকবে।

তাছাড়া যাদের থাইরয়েড ,ডায়াবেটিসের মত রোগের অতিরিক্ত ড্রাই স্কিন  তারা ফুট ক্রীম নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন পা ফাটার সমস্যা এড়াতে। 

বাড়িতে ঘরোয়া উপায়ে পায়ের স্পা বা ফুট স্পা করবেন কিভাবে ?

প্রতিদিনের কাজের চাপে আর আলসেমির জন্য পার্লারে গিয়ে পেডিকিউর করার মত সময় আর ইচ্ছে কোনোটাই থাকে না । ছুটির দিনেও মনে হয় ,পরিবারের সাথে বাড়িতে সময় কাটায়। তাহলে বাড়িতে বসেই  ফুট স্পা করে নিয়ে পারবেন।

সপ্তাহে অন্তত একদিন পায়ের জন্য এক্সট্রা সময় দিন। গামলার জলে হালকা গরম জলে লেবুর রস , নুন , শ্যাম্পু দিয়ে পা দুটো ডুবিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর উঠিয়ে নিন । এবার পিউমিক স্টোন দিয়ে আলতো করে ঘষে পায়ের মৃত চামড়া  তুলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে পা মুছে নিন । পা ফাটা ও পায়ের যত্ন তে এটি খুব উপকারি।

তারপর  চালের গুঁড়ো , লেবুর রস , মধু , দুধের সর দিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানানো প্যাক লাগিয়ে   নিন। শীতকালে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার ব্যাপার আছে ,তাই ১০ মিনিটই যথেষ্ট , লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন ।

পরিষ্কার তোয়ালে পা মুছে নিয়ে এরপর ময়েশ্চারাইজার  বা ফুট ক্রীম লাগিয়ে নিন ।  ব্যস তাহলেই আপনার সুন্দর , কোমল পদযুগল শীতের রুক্ষতার মধ্যেও দেখাতে পাবেন।

পাকা কলা পা ফাটা দূর করতে খুবই কার্যকরী। অতিরিক্ত পাকা কলা অনেক সময় কালো হয়ে যায় খাওয়া যায় না ফেলে দিতে হয় । এবার থেকে আর অতিরিক্ত পাকা কলা ফেলে দেবেন না ।

কলা ভালো করে পেষ্ট করে নিয়ে অ্যাভোকাডোর পেস্ট সঙ্গে মিশিয়ে ফাটা গোড়ালিতে লাগিয়ে রাখুন । কিছুক্ষন পর গরম জলে ধুয়ে ফেলুন । বাড়িতে অ্যাভোকাডো নেই , চিন্তা করবেন না , শুধু পাকা কলা ই লাগিয়ে ফেলুন।

গ্লিসারিনের সঙ্গে লেবুর রস ও গোলাপজল মিশিয়ে ফাটা গোড়ালিতে লাগান। পা ফাটার সমস্যা থাকবে না। লেবুর রসে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে , যা পা এর মৃত চামড়া সহজেই পা থেকে খসিয়ে ফেলে। গ্লিসারিন পা এর ময়েশ্চার ধরে রাখে ।  গোলাপ জল ত্বককে সুন্দর করে তোলে। পা এর যত্নে নিয়মিত এই মিশ্রণটি লাগান।

আমেরিকান পোডিয়্যাট্রিক মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এর গবেষণায় জানা গিয়েছে যে 50 বছর বয়স পর্যন্ত মানুষের এক জোড়া পা গড়ে 75,000 মাইল অতিক্রম করে। একবার ভেবে দেখুন আপনার পা কে কত সারাদিন কত কাজ করতে হয়। আর আমরা পা কেই অবহেলা অযত্ন করি।

সারাদিনের শেষে পায়ের যত্ন নিয়ে আলসেমি লাগে। কিন্তু দিনের শেষে পায়ের একটু আরাম প্রয়োজন হয় । তাতে সারাদিনের ক্লান্তিও দূর হবে , পায়ের  স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে। আর শীতকালে পায়ের একটু পরিচর্চা করলে পা ফাটার সমস্যা থাকবে না সাথে আপনার পায়ের সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি পাবে । এভাবে পা ফাটা ও পায়ের যত্ন নিতে পারেন।

তথ্যসূত্র :

মায়ো ক্লিনিক , healthline.com ,মেডিক্যাল নিউজ টুডে, sajgoj.com , myupchar.com, কোরা ও অন্যান্য

Leave a Reply