দাঁতের গঠন,দাঁতে কি কি সমস্যা হয় সে সম্পর্কে জানতে হবে?,বাচ্চাদের দাঁতের মাড়ির যত্ন নেবেন কিভাবে?,দাঁতে হলুদ ছোপ পড়ার কারণ কি ?

দাঁতের যত্ন

আপনার একটা মিষ্টি হাসির মধ্যে বা আপনি যখন কারো সাথে কথা বলেন আপনার মুখে আপনার ব্যক্তিত্ব , আপনার মনের ভাব ফুটে ওঠে। সেই সময় আপনার ঠোঁটের ফাঁকে উঁকি দেয় সাদা ঝকঝকে  দাঁত ।  কিন্তু খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে দাঁতে নানান সমস্যা দেখা দেয় দাঁত পড়ে যায়। তাই  দাঁত সুস্থ রাখতে আগের থেকেই দাঁতের যত্ন নিতে হবে। এই নিবন্ধে দাঁতের সমস্যা ও যত্ন নিয়ে সম্পূর্ণ আলোচনা করব।  এই নিবন্ধে যে সব বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করব ,সেগুলি হল :

যখন আপনি প্রাণ খুলে বা মিষ্টি করে হাসেন আপনার সুন্দর সাজানো দাঁতগুলো সাদা ঝকঝক করে ওঠে। অথবা আপনি যখন কারোর সাথে কথা বলেন ঐ সুন্দর দাঁতগুলো ঠোঁটের ফাঁকে উকি দেয়। দাঁতের এই সৌন্দর্য্য বজায় রাখতে নিয়মিত  অভ্যাসের মাধ্যমে দাঁতের যত্ন নিতে হবে।

তার আগে আমাদের জানতে হবে দাঁতের আলাদা করে যত্ন কেন নিতে হবে ? দাঁতে যত্ন নেওয়ার কারণ জানতে হলে আগে আমাদের জানতে হবে দাঁতের কি কি সমস্যা হয়ে থাকে ?  যখন সমস্যা গুলো জানতে পারবো তখনই দাঁতের যত্ন নেওয়া শুরু করব। তার আগে ওই যে কথায় আছে না, দাঁত থাকে দাঁতের মর্ম বোঝে না। তাই এই নিবন্ধে দাঁতের সমস্যা ও যত্ন নিয়ে সম্পূর্ণ আলোচনা করব।

এই নিবন্ধের আলোচ্য বিষয় গুলি হল :

  • মানব দেহে দাঁতের গঠনগত পরিচয় ( The structural identity of teeth in the human body )
  • আকৃতি অনুযায়ী দাঁতের  প্রকারভেদ  ( Types of teeth according to shape )
  • অযত্নের ফলে দাঁতে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে ? ( What problems can occur in the teeth as a result of carelessness ? )
  • দাঁতের  সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি মিলবে ? ( How to get rid of dental problems? )
  • বাচ্চার দাঁতের যত্ন নেওয়া কেন জরুরী ?  ( Why is it important to take care of baby teeth? )
  • দাঁতকে সুস্থ সবল রাখতে দাঁতের যত্ন নেবেন কিভাবে? ( How to take care of your teeth to keep them healthy and strong? )

মানবদেহের মুখগহ্বরের ভেতর উপর – নীচের চোয়াল জুড়ে সাজানো অর্ধবৃত্তাকার ডিম্বাকৃতি অঙ্গ হল দাঁত। 

 মানবদেহের মুখগহ্বরের ভেতর ; চোয়ালে অর্ধবৃত্তাকারে সাজানো দুধ সাদা রঙের ডিম্বাকৃতি ; ক্যালসিয়াম ও ফসফেট উপাদান দিয়ে গঠিত কঠিনতম অঙ্গ হল দুপাটি দাঁত। 

দাঁতের গঠন 

দাঁতের তিনটি অংশ –

    ১।   মুকুট বা ক্রাউন 

 আমারা  মুখ হা করে খুললে মুখের ভেতরের মাড়ির উপর দাঁতের যে সাদা রঙের অংশ দেখা যায় সেটাই হল মুকুট । মুকুটের দুটি অংশ থাকে –   

 ক)  এনামেল – এটি দাঁতের বাইরের অংশের শক্ত আবরণ । ক্যালসিয়াম ও ফসফেট দিয়ে গঠিত।

 খ)  ডেন্টিন – এটি দাঁতের ভেতরের অংশ।

  ২।  গ্রীবা – গ্রীবার অংশ দুটি

 ক )  পাল্প বা দন্তমজ্জা যা ধমনী, শিরা স্নায়ু ও রক্তবাহী নালিকা দিয়ে তৈরী। অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে।

 খ)  মাড়ি 

   ৩।  মূল বা শিকড় –  

   ক)  স্নায়ুরজ্জু , 

   খ)  সিমেন্ট দন্তমূলের‌ চারিদিকে অবস্থিত অস্থিসদৃশ পাতলা আবরণ বিশেষ। দাঁতকে চোয়ালের সাথে যুক্ত করে রাখে।

  গ)  এবং চোয়ালের অস্থি দিয়ে গঠিত। 

দাঁতের গঠন

দাঁতের প্রকারভেদ

কার্যকারিতার উপর নির্ভর করে দাঁতকে চারভাগে ভাগ করা হয়। দাঁতগুলি যদিও একসাথে পর পর সাজানো থাকে । তবুও এদের স্থান ও গঠন অনুযায়ী খাদ্যবস্তু কে মুখগহ্বরের ভেতর ভেঙে , ছিঁড়ে , পিষে একদম ক্ষুদ্র কণায়  পরিণত করে।

মোলার বা পোষক  বা  কর্তন দাঁত – দাঁতের ওপরের এবং নিচের পাটিতে  দুপাশে তিনটি করে এই দাঁত গুলি সাজানো থাকে । খাদ্য বস্তুকে চিবিয়ে সম্পুর্নভাবে পিষে  ফেলতে কাজ করে।

প্রি – মোলার বা পোষক বা ছেদন দাঁত – দাঁতের ওপরের এবং নিচের পাটিতে  দুপাশে দুটি করে এই দাঁত গুলি সাজানো থাকে । খাদ্য বস্তুকে একদম ছোট ছোট  টুকরো টুকরো করে দেয়।  

ক্যানাইন বা কৃন্তক বা অগ্ৰ-পেষন দাঁত – দাঁতের ওপরের এবং নিচের পাটিতে  দুপাশে একটি করে এই দাঁত গুলি সাজানো থাকে । খাদ্যবস্তু কে ছিঁড়তে সাহায্য করে।

ইনসিসর বা পেষন দাঁত –  দাঁতের ওপরের এবং নিচের  পাটিতে সামনের চারটি দাঁত হল হল পেষন দাঁত । আমরা যখন কোনো খাদ্যবস্তু মুখের ভিতরে প্রবেশ করায় , সামনের চারটি দাঁত খাদ্যবস্তু কে প্রথম টুকরো করে কেটে ফেলে।

দাঁতের প্রকারভেদ

   এই চার প্রকার মূল দাঁত ছাড়াও গজ দাঁত ও আক্কেল দাঁত এই দু ধরনের দাঁত থাকে । 

এ ছাড়াও দাঁতের উপরের পাটিতে অস্থায়ী দাঁতের পাশ দিয়ে অর্থাৎ ঠোঁটের দুপাশে যে বাড়তি দাঁত বেরোয় তাকে গজ দাঁত বলে। এটি কারো কারো ক্ষেত্রে থাকে , সবার থাকে না । এটি বাড়তি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে । হাসলে সুন্দর দেখতে লাগে।

আক্কেল দাঁত বা উইশডম টিথ এটি মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে গজায়। 

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মোট ৩২ টি দাঁত থাকে । উপরের চোয়ালের পাটিতে থাকে ১৬ টি দাঁত  আর নিচের চোয়ালের পাটিতে থাকে ১৬ টি দাঁত।

দাঁতে কি কি সমস্যা হয় সে সম্পর্কে জানতে হবে  ?

দাঁতের কাজ হল আমরা যে খাদ্য গ্রহণের জন্য যে সব মুখ গহ্বরের মধ্যে প্রবেশ করায় সেগুলোকে ক্ষুদ্র অংশে পরিণত করা । খাবার খাওয়ার পর ভালো করে মুখ না ধুয়ে ফেললে এবং প্রতিদিন দাঁতের যত্ন না নিলে দাঁত ও মাড়ির একাধিক সমস্যা দেখা যায় । খাদ্যকে 

আপনি সারাক্ষণ যতবার যা ইচ্ছে খাবার খান না কেন দুপাটি সাদা দাঁত সারাক্ষণ কাজ করে । কিন্তু খাবার খাওয়ার পর মুখ না ধুলে , কুলকুচি করে না ফেললে এবং নিয়মিত ব্রাশ না করলে দাঁতের , মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে।

দাঁতে পাথর জমে

দাঁতে প্লাক দেখা দেয় 

আমরা সারাদিন যেসব খাবার খাই , বেশিরভাগ সময়ই ভালো করে মুখ পরিষ্কার করি না ফলে দাঁতের গায়ে খাবার লেগে থাকে । আমাদের মুখের ভেতর সারাক্ষণই ব্যাকটিরিয়া থাকে । এই মুখের ভেতর বেঁচে যাওয়া ক্ষুদ্র খাবারের অংশ এবং ব্যাকটিরিয়া মিলে দাঁতের উপর পাতলা একটি আবরণ গড়ে তোলে , একে প্লাক বলে।

দাঁতের গোড়ায় পাথর জমার পদ্ধতি খুবই ধীর। আমাদের দাঁতের গোড়ায় সাধারনত সবসময়ই ব্যাকটেরিয়া ও খাদ্যকনার একটি নরম হালকা আবরণ থাকে। একে প্লাক (plaque) বলে। প্রতিবার ব্রাশ করার সাথে সাথে প্লাকের বেশিরভাগ অংশ চলে যায়, কিন্তু দ্রুতই আবার 

স্বাভাবিক ভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। 

প্লাক সাধারণত নরম আবরণ হলেও

মুখের ভেতরের লালার মধ্যে মিনারেল এবং ফসফেট উপাদান প্রতিনিয়ত ধীরে ধীরে জমতে থাকা খাবারের অংশ ও ব্যাকটিরিয়া য় তৈরী প্লাক কে শক্ত করে তোলে। যখন প্লাক শক্ত হয়ে যায় তাকে ডাক্তারি ভাষায় ক্যালকুলাস বলে । সাধারণত একেই আমরা পাথর বলি। 

 মুখ গহ্বরের ভেতরে থাকা  লালায়  বিভিন্ন মিনারেল ও ফসফেট থাকে যা  প্লাককে ধীরে ধীরে শক্ত করে দেয়। নিয়মিত ব্রাশ না করলে এই প্লাক পরিষ্কার হয় না তখন প্লাক জমে শক্ত হয়ে যায় যা ব্রাশের 

 ব্রাশের সাথে পরিষ্কার হতে চায় না সহজে৷ এই শক্ত আবরণ কেই ক্যালকুলাস বা পাথর বলা হয়।

ক্রমাগত প্লাকে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ কমতে থাকে ও মিনারেল/ফসফেট জমে প্লাক আরো শক্ত হতে থাকে৷ এই শক্ত বস্তুকেই ক্যালকুলাস বা পাথর বলা হয়। দাঁতের গোড়ায় পাথর জমে ক্যারিজ সৃষ্টি করে দাঁত ক্ষয় করে যাকে ক্যাভিটি ‌বলে। এবং দাঁতের মাড়ি দুর্বল করে দেয় , ফলে দাঁত পড়ে যাওয়ার সমস্যা হয়। নিয়মিত ব্রাশ পকরার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই প্লাক দূরীভূত হয়ে যায় কিন্তু তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে স্কেলিং করতে হয়।এটি সম্পূর্ণ রূপে দাঁতের মাড়ির অবস্থা এবং পাথরের অবস্থা দেখে ডাক্তার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

দাঁতে পোকা লাগে 

দাঁতে পোকা লেগে দাঁত নষ্ট হয়ে যায়। এই লাইনটির সাথে আমরা একদম ছোটো থেকেই সুপরিচিত । টেলিভিশন নিউজপেপার এর টুথপেস্ট বিজ্ঞাপনে কতগুলি পোকা কিলবিল করছে আতস কাঁচ দিয়ে দেখিয়ে প্রমাণও করে দেয়। এটা নিতান্তই মানুষকে সচেতন করার জন্য।

আজ পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানী  দাঁতে পোকার অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে পারে নি।

 আসলে দাঁতে কোনোদিনই পোকা হয় না , বা লাগে না । যখন আমরা চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাই , আমাদের মুখ গহ্বরের ভেতরে একধরনের জীবাণুর সঙ্গে মিশে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড দাঁতের ওপরের ক্যালসিয়াম ও ফসফেট দিয়ে তৈরী শক্ত আবরণ এনামেলকে ক্ষয় করে দেয় যা থেকে গর্তের সৃষ্টি করে। এই গর্তই হল দাঁতের পোকা । 

পায়োরিয়া  (Pyorrhea)  

দাঁতে পায়োরিয়া  (Pyorrhea) র সমস্যা হতে পারে । দাঁতের গোড়ায় পুঁজ জমে রক্ত পাত হয়। দাঁত ও মাড়ির সংযোগ স্থলে মুখ গহ্বরের ভেতর থাকা লালায় মিনারেল থেকে টার্টার (Tartar) নামক পাথুরে পদার্থ ও খাদ্যের ক্ষুদ্র কণা জমা হয়। ফলে মাড়ি ক্রমে সংকুচিত হয়ে দাঁতের গোড়া থেকে মাড়ি খুলে যায় । এই খোলা স্থানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটিয়ে ক্রমশ  ব্যাকটেরিয়ার  বংশবৃদ্ধি করে  এবং  বিষাক্ত ও প্রদাহকারক উপাদানসমূহ জমা হয়ে মাড়িতে ইনফেকশন , ব্যথা ও রক্তপাত হয়। সংলগ্ন অস্থিকলা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে দাঁতকে নড়বড়ে করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত দাঁত পড়ে যায়।

ঘরোয়া উপায়ে দাঁত ভালো রাখার উপায় জানতে হবে ?

আপনার দাঁতকে সুস্থ সবল মজবুত রাখতে একমাত্র আপনিই পারবেন। বয়সের সাথে সাথে দাঁত পরে ফোকলা হয়ে যায়। তখন আর ইচ্ছে থাকলেও সব খাবার খেতেও পারবেন না , আর দাঁত খুলে হাসতেও পারবেন না । সেজন্য খাদ্যাভ্যাস  ও নিয়মিত দাঁত জিহ্বা পরিষ্কার ও দাঁতের যত্ন নিতে হবে। 

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করুন

প্রতিদিন অন্তত ২ বার সকালে ঘুম থেকে ওঠে এবং বিকেল দিক করে বা রাত্রে শোয়ার আগে 

ভালোভাবে আপনার দাঁত ব্রাশ করুন। শুধু ব্রাশ করলেই হবে না সঠিক ভাবে ব্রাশ করা জরুরি।

 প্রতিবার দুই মিনিট সময় নিয়ে এমনভাবে ব্রাশ করুন যাতে ব্রাশ দাঁতের সব দিকে পৌঁছায়। 

দাঁত ব্রাশ করার সময় প্রথম এক  মিনিট একটি  ব্রাশে শুধু জল ব্যবহার করে চোয়াল দুটিকে একসাথে রেখে দাঁতের উপর থেকে নিচে এবং নীচ থেকে ওপর হালকা হাতে ব্রাশ করুন । এবার   বন্ধ চোয়াল দুটিকে খুলে দুপাশে ,দাঁতের ভেতরের  দিকে , মাড়ির লাইন এ আস্তে আস্তে  আপনার দাঁত ব্রাশ করুন। এতে  মাড়ির নিচে আপনার দাঁতের সাথে লেগে থাকা প্লাক পরিষ্কার হয়। এবার টুথপেস্ট লাগিয়ে একইভাবে আবারও দাঁত ব্রাশ করুন। ব্রাশ করার সময় খেয়াল রাখবেন খুব  তাড়াহুড়ো করে জোরে জোরে দাঁত ঘষবেন না , এতে মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রক্তপাত হতে পারে। দাঁতের সাথে জিহবা ব্রাশ করতে ভুলবেন না, সেই সাথে আপনার মুখ গহ্বরের উপরের তালু।

সঠিক টুথ ব্রাশ নির্বাচন করুন

প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর  টুথব্রাশ  বদলান খুব শক্ত ব্রেসলের ব্রাশ ব্যবহার করবেন না । এটি মাড়িতে আঘাত করে রক্ত ঝড়াতে পারে আর খুব নরম ব্রাশের ব্রেসল  প্লাক  দূর করতে পারে না। তাই মাঝারি  ধরনের ব্রেসলের  ব্রাশ ব্যবহার করুন।

খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম রাখুন

প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় মরসুমি শাক সবজি ও ফলমূল , দুগ্ধ জাতীয় খাবার , প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখার চেষ্টা করুন।

দুগ্ধ জাতীয় খাদ্যতালিকায় দুধ , মাখন , পনির ইত্যাদি খান।

 প্রোটিন জাতীয় খাবার

  এছাড়াও ছোটো মাছের কাঁটায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে , ছোটো মাছের কাঁটা ফেলে না দিয়ে চিবিয়ে খান। তাছাড়াও মুরগির মাংস, ডিম, সামুদ্রিক মাছ প্রভৃতিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে।

মরসুমি ফল 

 কমলালেবু, পেয়ারা, কাঠবাদাম, তরমুজ, জলপাই, কাজুবাদাম, আপেল, আখরোট বাদাম, খেজুর, কলা, পাকা পেঁপে, আনারস, আঙ্গুর, কাঁঠাল, লিচু, আম, জাম, স্ট্রবেরি ইত্যাদি ফলে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। 

শাকসবজির তালিকায়  কচুর শাক, পালং শাক, কলার মোচা, কাঁচকলা, কচুর লতি, চালকুমড়া, কচু, শালগম, সজনে ডাঁটা, বাধাকপি, মটরশুঁটি, মিষ্টি আলু, মাশরুম, লেটুসপাতা, ঢেঁড়স, ধনেপাতা, ধুন্দুল, করলা ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে । যখন যেটা পাওয়া যাবে খান।

দাঁতের রুটিন চেক আপ করান নিয়মিত

দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে অন্তত প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর ডেন্টিস্টের কাছে রুটিন চেক আপ করা অত্যন্ত জরুরি। সাথে দাঁতের বা মাড়ির কোনো সমস্যা হলে ডেন্টিস্ট কে জানান।

বাচ্চাদের দাঁতের মাড়ির যত্ন নেবেন কিভাবে?

দাঁতের যত্ন বাচ্চার ৬ মাস বয়স থেকেই দাঁতের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসময় শিশুকে দুধের পাশাপাশি ল্যাকটোজ,  গ্লুকোজ ও অন্যান্য পলিস্যাকারাইড খাবার দাঁতের সংস্পর্শে আসে। 

শিশুকে প্রত্যেকবার খাবার খাওয়ানোর পর ভালো ভাবে পরিষ্কার না করলে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে লালার সাথে মিলে থাকা মিনারেল,  ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদির সংস্পর্শে এসে খাবারের ফার্মেন্টেশন হয়। এতে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি হয়,  যা দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে যা থেকে দাঁতে ক্যারিজ বা ক্ষয়ের হয় । যা থেকে বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে।

১। শিশুর মস্তিষ্ক ও শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সব ধরনের খাবার প্রয়োজন। তবে অধিক পরিমাণে চকোলেট , মিষ্টি জাতীয় খাবার , চিপস্ , ফাস্ট ফুড , আইস্ক্রিম প্রভৃতি খাওয়ার দিকে বাচ্চাদের ঝোঁক বেশি থাকে। 

২ । প্রত্যেকবার খাবার খাওয়ার পর বাচ্চাকে মুখে কুলকুচি করে জল ফেলার অভ্যাস করুন। এতে দাঁতে খাবার আটকে থাকবে না।

 ৩। বাচ্চার প্রথম ৫ মাস বাচ্চা খাবার খাওয়ার পর পরিষ্কার নরম ভেজা কাপড় দাঁত মুছিয়ে দিন ।

  ৪। একটু বড় হলে থুতু ফেলতে শেখান , তারপর টুথ পেস্ট দিয়ে কিভাবে দাঁত মাজতে হয় বাচ্চার মুখে আঙ্গুল ভরে দাঁতের উপর নীচে কিভাবে মাজতে হয় শেখান। এইভাবেই শিশুর মধ্যে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তুলুন।

  ৫। শিশুকে প্রথম থেকেই দুবেলা দাঁত মাজার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

  ৬। আপনার বাচ্চার জন্য ছোট মাথা এবং নরম নাইলন ব্রিস্টল রাবারের হ্যান্ডেল দেওয়া কার্টুন চরিত্রযুক্ত ব্রাশ বেছে নিন । এতে বাচ্চা মজা ও উৎসাহ পাবে নিয়মিত দাঁত মাজার। শিশুকে থুতু কিভাবে ফেলতে হবে সেখান  তিন বছর বয়সের পর থেকে শেখান। মটরের দানার মতো ব্রাশের মাথায়  টুথপেস্ট দিয়ে আপনার বাচ্চাকে নিজেই দাঁত মাজার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

  ৭। বাচ্চার খাদ্যতালিকায় দুধের সাথে অন্যান্য ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ শাকসবজি ফলমূল অ্যানিমাল প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখুন। এছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ট্যাবলেট খাওয়ানো যেতে পারে। শিশুর বেড়ে ওঠার সাথে সাথে পরিমিত পরিমাণে ক্যালসিয়াম এর চাহিদা অনুযায়ী শরীরে  যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকা অত্যন্ত জরুরি । এতে দাঁত , হাড় ও নখ মজবুত হবে। 

দাঁতে হলুদ ছোপ পড়ার কারণ কি ?

   সাধারণ মানব শিশুর ৪ – ৭ মাসের মধ্যেই দুধের ঝকঝকে সাদা দাঁত ওঠে। তারপর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে জীবন যাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সাথে ঝকঝকে সাদা দাঁতের উপর হলুদ , কালো ছোপ পড়ে সাদা রঙ ঢেকে যায়। হলুদ কিম্বা কালো ছোপ ধীরে ধীরে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে , সেগুলি হল :

জলে  ফ্লুরাইড এর মাত্রা বেশি থাকার কারণে দাঁত হলুদ ছোপ পড়ে যায়।

অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে দাঁতে হলুদ ছোপ পড়ে । এছাড়াও  চিনি দাঁতের এনামেল আস্তরণ ক্ষয় করে ক্যাভিটি তৈরী করে ।

ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই ফলমূল অতিরিক্ত খেলে দাঁতে হলুদ ছোপ পড়ে। এই জাতীয় ফলে অম্লীয় উপাদান থাকে ,দাঁতের এনামেলের আস্তরণ নষ্ট করে দেয় । ফলে দাঁতের সাদা ভাব চলে যায়। 

অতিরিক্ত চা কফি খাওয়ার ফলে দাঁতে হলুদ ছোপ পড়ে।

অতিরিক্ত ধূমপান করার ফলে দাঁতের রঙ কালচে হয়ে যায়। 

এছাড়াও অ্যান্টি-ডিপ্রেশনস, ম্যালেরিয়ার ওষুধ  অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয়  ওষুধ খাওয়ার ফলে দাঁতের রঙ কালো হয়ে যায়। 

এছাড়াও দাঁতের সংক্রমণ অ্যালসারেটিভ জিঙ্গিভাইটিস হলেও দাঁতের রং কালো হয়ে যায়। 

ঘরোয়া পদ্ধতিতে দাঁতের হলুদ ছোপ দূর করার উপায়

প্রতিদিন নিয়মিত ব্রাশ করার পরও দাঁতের হলুদ , কালো ছোপ থেকেই যায়। অনেকেই টিথ হোয়াইটিনিং চুইনগাম , টিথ হোয়াইটিনিং টুথপেস্ট প্রভৃতি সব ব্যবহার করে থাকেন । কিন্তু এগুলি দীর্ঘ দিন ব্যবহার করলে সাময়িক ভাবে দাঁতের উপর ছোপ দূর হয়ে যাবে , কিন্তু পরবর্তীকালে দাঁতের অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। তাই কেমিকেল বাদ দিয়ে ঘরোয়া উপায়ে দাঁতের ছোপ দুর করার উপায় গুলি হল :

 কলার খোসা

দাঁতের হলুদ ছোপ দূর করতে  কলার খোসা ব্যবহার করুন। কলা ছাড়িয়ে সাদা অংশটা দুই মিনিট দাঁতে ঘষুন । কলা ছাড়িয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহার করতে হবে ,তবেই  উপকার পাওয়া যাবে আগে থেকে ছাড়িয়ে রেখে সেটি ব্যবহার করলে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। নিয়মিত  এক থেকে দুই সপ্তাহ এইভাবে দাঁতের যত্ন নিলে হলদে ছোপ দূর হয়ে যাবে।

 তিলের পেস্ট

দাঁতের হলদে ছোপ দূর করতে তিলের ব্যবহার করুন। ৪ চামচ তিল ভালো করে বেটে পেস্ট  করে নিন। এবার সেই পেস্ট দিয়ে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন দাঁত মাজলে দাঁতের হলদে ছোপ দূর হয়ে যাবে। তার সাথে দাঁতের এনামেল ও ভালো থাকবে।

 নারকেল তেল দিয়ে কুলকুচি 

নারকেল তেলে এক ধরনের অ্যাসিড থাকে । যা মুখের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলিকে মেরে ফেলে ।  দুই চামচ নারকেল তেল মুখে নিয়ে পাঁচ মিনিট কুলকুচি করে ফেলে দিন । প্রথম প্রথম পাঁচ মিনিট মুখে রাখতে পারবেন না ,সেক্ষেত্রে এক থেকে দুই মিনিট রাখুন , আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে যাবে। এছাড়াও প্ল্যাকের  সমস্যাও  দূর হবে ।

বেকিং সোডা

দুই চামচ জলের সাথে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই পেস্ট টি ব্রাশে লাগিয়ে দাঁত মাজুন। নিয়মিত ব্যবহার করে দেখুন দাঁতের হলুদ ছোপ দূর হয়ে যাবে। সাথে মুখের ভেতর অন্যান্য ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়া গুলিও মরবে , তার সাথে দাঁতের অন্যান্য রোগ হওয়ার আশঙ্কাও দূর হবে।

 মধু ও ভিনিগারের মিশ্রণ

 ৪ চামচ মধুর সাথে ২ চামচ ভিনিগার নিয়ে মিশিয়ে নিন। সেই মিশ্রণটি দিয়ে দাঁত মাজুন। নিয়মিত ব্যবহারে অল্প দিনেই দাঁতের হলদে ছোপ দূর হয়ে যাবে।

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় তাঁর বড়মামা সিরিজে মজা করে বলেছিলেন – ” দাঁত নাকি মানুষের চেয়েও অপরাধপ্রবণ ।  সারা জীবনে অনেক পাপ কাজ করে । পাঁঠা চিবোয় , মুরগির ঠ্যাং ভাঙ্গে , মাছের জীবন নাশ করে । দাঁতের কাজই হল নাশকতামূলক । একটাও গঠনমূলক কাজের দৃষ্টান্ত নেই । সারা জীবন খিঁচিয়ে গেল , চিবিয়ে গেল , কামড়ে গেল। পাপের বেতন কী ? মৃত্যু । তাই মানুষের আগেই তার দাঁত পড়ে। মানুষের পোষ্টিক তন্ত্রের গুরুত্ত্বপূর্ণ একটি অংশ হল দাঁত।” আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে সারাদিনে একবার ব্রাশ করা ছাড়া আর কোনো যত্নই তেমন নিয়ই না , ফলত দাঁতের সমস্যায় ভুগতে হয়। তাই দাঁতের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরী।