Diagram of Tonsil

টনসিল কি ?

 শীতকালে টনসিল এর ব্যথায় কি করবেন ?

শীতকালে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় আমাদের ভুগতে হয় , তা হল টনসিলাইটিস। শীতকালে টনসিল ফুলে যাওয়া , টনসিল এর ব্যথা এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার ।  যাকে আমরা সাধারণ টনসিল হয়েছে বলেই জানি। আসলে টনসিল আলাদা করে কোনো সমস্যা বা রোগ নয়। টনসিল আমাদের দেহের একটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ , যেটি আমাদের মুখগহ্বরের ভেতরে জিহ্বার একদম প্রান্তে আলজিহ্বার পাশে থাকা দুটি গ্রন্থি । কিছু কারণবশত এই গ্রন্থিতে ইনফেকশন হলে গ্রন্থি দুটি ফুলে ওঠে , ফলে আমাদের গলা ব্যথা হয় , সাথে আরো নানা সমস্যা হয় । মূলত আমরা তীব্র গলা ব্যথাকেই টনসিল বলে থাকি । তবে টনসিলের ইনফেকশনকে টনসিলাইটিস বলা হয়। গলায় তীব্র ব্যাথায় হল টনসিলাইটিস।

এই নিবন্ধে টনসিল সম্মন্ধে আলোচ্য বিষয়গুলি গুলি হল :

  • টনসিল কি ? (What is tonsils? in Bangla)
  • টনসিলাইটিস কখন হয় ? ( When does tonsillitis occur? in Bangla )
  • টনসিলাইটিস কত প্রকারের হয়? ( How many types of tonsillitis are there? in Bangla)
  • টনসিলাইটিস হবার কারণ গুলি কি কি ? ( What are the causes of tonsillitis? in Bangla )
  • টনসিল হলে কি করবেন ? ( What to do if you have tonsils? in Bangla)
  • কখন টনসিল অপারেশন করবেন ? ( When to perform tonsil operation? in Bangla )
  • টনসিল অপারেশন করলে কি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে ? (Will tonsil operation reduce the immunity of our body? in Bangla)
  • টনসিল স্টোন কি? কিভাবে তৈরী হয় ? ( What is Tonsil Stone? How is it made? in Bangla)
  • টনসিলে পাথর হলে কি করবেন ? ( What to do if you have a stone in the tonsil? in Bangla)
  • টনসিল কি ছোঁয়াচে? ( Is tonsils contagious? in Bangla)
  • কি করে বুঝবেন টনসিল (টনসিলাইটিস) হয়েছে ? ( How do you know that tonsillitis has occurred? in Bangla )
  • টনসিলাইটিস এবং স্ট্রেপ থ্রোট কি একই ? ( Is tonsillitis and strep throat the same? in Bangla )
টনসিল

টনসিল কি ? টনসিলাইটিস কখন হয় ?

টনসিল

টনসিল হল  লিম্ফ নোড বা গ্রন্থি যা আমাদের মুখগহ্বরের ভেতরে আলজিহ্বার দুপাশে থাকে । এই লিম্ফ নোড গ্রন্থি শ্বেত রক্তকণিকা উৎপন্ন করে থাকে । এই শ্বেত রক্ত কণিকা প্রতিনিয়ত  বাইরে থেকে দেহে প্রবেশকারী রোগবহনকারী  জীবাণু , ভাইরাস ,ব্যাকটেরিয়ার  বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ,আমাদের দেহকে সুস্থ রাখে।

টনসিলাইটিস

আমরা যখন নাক ও মুখের মাধম্যে নিঃশ্বাস গ্রহণ করি ,বাতাসে অনেক ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু থাকে । টনসিল গ্রন্থির মধ্যে থাকা শ্বেত রক্ত কণিকা এই  আমাদের শরীরে বাইরের এই সব ক্ষতিকারক উপাদান কে শরীরে প্রবেশ করতে দেয় না। এক কথায় আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। এই সব ভাইরাস ,ব্যাকটিরিয়া , জীবাণুর সাথে লড়তে লড়তে যদি টনসিল গ্রন্থি নিজেই আক্রান্ত হয় তখন টনসিলে ইনফেকশন হয়। যাকে টনসিলাইটিস বলে।

টনসিলাইটিস যেকোনো বয়সেই হতে পারে । এমনটা বলা হয় যে ,প্রতিটি মানুষ তার জীবনে কখনো না কখনো একবার অন্তত টনসিলাইটিস এ আক্রান্ত হয়েছে বা হবেই। তবে সাধারণত  বাচ্চাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায় , বিশেষ করে বাচ্চা যখন প্রথম ঘরের গণ্ডি ছেড়ে স্কুলে যাওয়া শুরু করে , তখন বাচ্চাদের মধ্যে টনসিলাইটিস এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

টনসিলাইটিস হবার কারণ কি ?

  বেশিভাগ ক্ষেত্রে অধিক  ঠাণ্ডা লাগানোর ফলে টনসিলাইটিস হয় । তাছাড়াও ভিজে স্যাঁতসেঁতে জায়গায় দীর্ঘ সময় থাকেলও টনসিলাইটিস হয়ে থাকে ।

আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে টনসিলে ইনফেকশন হবার সম্ভাবনা থাকে।

গরমে বার বার গায়ে ঘাম জমলে ঠাণ্ডা লেগে টনসিলাইটিস হয় ।

রোদ থেকে এসে ফ্রিজের জল খেলে ,অথবা বাবার  এসি নন – এসি এইভাবে বারবার ভিন্ন পরিবেশের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ঠাণ্ডা – গরম লেগে টনসিলাইটিস হবার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়াও টনসিলাইটিস হবার অপর একটি কারণ হল ভাইরাস এবং ব্যাকটিরিয়ার আক্রমণের ফলেও টনসিলাইটিস হয়ে থাকে।

টনসিলাইটিস হবার কারণ ?

টনসিল সারাতে ঘরোয়া উপায়ে কি করবেন ?

যাদের অল্পতেই ঠাণ্ডা লাগার ধাত আছে  তারা  শীতগ্রীষ্ম নির্বিশেষে ফ্রিজের জল, আইসক্রিম, কোল্ডড্রিঙ্কস এড়িয়ে চলুন।

প্রত্যেকবার খাবার খাওয়ার পর ঠিকমতো কুলকুচি করুন ।

 প্রতিদিন নিয়মিত গরম জলে নুন দিয়ে গার্গল টনসিলাইটিসের সমস্যা  থেকে রেহাই পাওয়া যায়। 

শীতকালে টনসিলের ব্যথায় মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করুন , সঙ্গে প্রচুর জল খান। এছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ,প্যারাসিটামল , গলা ব্যথার ওষুধ খেলে টনসিলের ব্যথা সেরে যাবে।

এছাড়াও কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে টনসিল দূর করার উপায় আছে , সেগুলি হল :

লেবুর রস – নারকেল তেল – মধুর ব্যবহার  :

একটি পরিষ্কার পাত্রে  পরিমাণ মত নারকেল তেল, লেবুর রস ও মধু নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে  মিশ্রণটি একদম হালকা আঁচে গরম করে নিন করুন। গরম হয়ে গেলে মিশ্রণটি নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে দিন। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে পরিষ্কার কাঁচের বোতলে ঢেলে রেখে দিন। প্রতিদিন তিনবার করে গরম জলের সাথে  এক টেবিল চামচ মিশ্রণটি মিশিয়ে খান । দেখবেন দিন কয়েকের মধ্যে টনসিলের ইনফেকশন সেরে উঠবে।

নুনের ব্যবহার  :

গরম জলে এক চিমটি নুন নিয়ে প্রতিদিন  দিনে তিন থেকে চার বার গার্গল করুন । দেখবেন টনসিলের ব্যথা অনেক কমে গেছে। নুন ইনফেকশন সারাতে কাজ করে।

দারুচিনির ব্যবহার :

দারুচিনি  ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ  সারিয়ে তুলতে খুব ভালো কাজ করে । এক গ্লাস গরম জলে পরিমাণ মত দারুচিনি গুঁড়ো ও এক চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন। সারাদিনে তিন থেকে চার বার এইভাবেই গরম জল বানিয়ে খান । দেখবেন টনসিল সেরে উঠবে।

তুলসী পাতার ব্যবহার  :

কয়েকটি তুলসী পাতা নিয়ে ফুটিয়ে নিন। এবার তাতে মধু মিশিয়ে খান, টনসিলের ব্যথা সারাতে তুলসী পাতা দারুন কার্যকারী , এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল উপাদান আছে যা ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ সারাতে কাজ করে।  

মেথির ব্যবহার :

গরম জলে মেথি ফুটিয়ে জলটা ঈষদ্ উষ্ণ থাকা অবস্থায় দিনে তিন থেকে  চারবার  গার্গল করুন । টনসিলের ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন সহজেই।

গ্রিন টি – মধুর ব্যবহার :

গ্রিন টি  এর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে ,যা জীবাণুর সাথে লড়তে সাহায্য করে এবং মধুর মধ্যে অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল উপাদান থাকে ,যা সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে।

আধ চামচ গ্রিন টি র সাথে  এক চামচ মধু দিয়ে দশ মিনিট মত ফুটিয়ে নিয়ে খেয়ে নিন। টনসিলের ব্যথায় আরাম পাবেন। সারাদিনে তিন থেকে চারবার এই চা বানিয়ে খান।

হলুদ  –  দুধের ব্যবহার :

হলুদের মধ্যে অ্যান্টিইনফ্লেমটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে। হলুদ মেশানো গরম দুধ যেমন সর্দি-কাশি ,ভাইরাল জ্বর , ঠাণ্ডা লাগা  দূর করে করতে সাহায্য করে। শীতকালে   টনসিলের গলা ব্যথায় গরম দুধের সাথে হলুদ মিশিয়ে গরম গরম খেয়ে নিন । গলা ব্যথায় আরাম পাবেন।

টনসিলাইটিস কত প্রকারের হয় ?

মানব দেহের শরীরে লিঙ্গুয়াল টনসিল,প্যালাটাইন টনসিল , টিউবাল টনসিল ও অ্যাডেনয়েড টনসিল এই চার প্রকারের টনসিল থাকে । এইগুলো একত্রে একটি গোলাকার রিং এর মত হয়ে থাকে যাকে ওয়েল্ডেয়ার্স রিং বলা হয়।

 এই টনসিলগুলির কোনো একটিতে সংক্রমণ হলে তাকে টনসিলাইটিস বলে।

প্যালাটাইন টনসিল সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয়ে থাকে। এই সংক্রমণ দু ধরনের হয় – অ্যাকিউট টনসিলাইটিস এবং ক্রনিক টনসিলাইটিস ।

 টনসিলের ইনফেকশনের প্রকারভেদ অনুযায়ী টনসিলাইটিস তিন প্রকারের হয়।

১। অ্যাকিউট টনসিলাইটিস

  বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। সাধারণত ১০ দিন থাকতে পারে না তার কম ও থাকতে পারে। এটি সাধারণ বাড়িতে কিছু নিয়ম মেনে চললেই সেরে যায়। টনসিলাইটিস আক্রমণ থেকে বাঁচতে বাচ্চাদের ভিটামিন সি ,জিঙ্ক জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে তাতে বাচ্চার শরীরে ইমিউনিটি ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বাচ্চাদের যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তবে বাড়াবাড়ি হলে ডাক্তারের কাছে অবশ্যই যাবেন।

২। ক্রনিক টনসিলাইটিস

ক্রনিক টনসিলাইটিস এ আক্রান্ত হলে কতগুলি জটিল সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে পারে । এটি খানিকটা অ্যাকিউট টনসিলাইটিস এর মতই কিন্তু এটি আরও জটিল রূপ ধারণ করে । এটি বয়ঃসন্ধিকালিন এবং যুবক যুবতীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। 

  • গলা ব্যথা হয়।
  • মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়।
  • টনসিল গ্রন্থির গায়ে পাথর ও জমতে পারে ।
  • টনসিল গ্রন্থির মধ্যে পুঁজ হয়।
  • ঘাড়ের নিচের দিকে গোলাকার  আকৃতির লিম্ফ নোড ফুলে যায়।

ক্রনিক টনসিলাইটিস দীর্ঘ দিন চিকিৎসা না করলে স্লীপ অ্যাপনিয়ার সাথে অন্যান্য নানা জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে ।

৩। রিকারেন্ট টনসিলাইটিস

 এটি এক বছরের মধ্যে বার বার হয় । ডাক্তারের পরামর্শ মত অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করা সত্ত্বেও বছরে পাঁচ থেকে সাতবার পর্যন্ত হয় । এইরকম হলে ডাক্তার টনসিল অপারেশনের জন্য বলে থাকেন। 

টনসিল অপারেশন করা কেন প্রয়োজন  ?

  ক্রনিক টনসিলাইটিস এর ক্ষেত্রে কখনো কখনো অপারেশনের প্রয়োজন হয়। আলজিহ্বার পাশে

টনসিল গ্রন্থি দুটো অধিক মাত্রায় ফুলে গেলে খাবার অথবা জল গিলতে অসুবিধা তো হয় ই সাথে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যায় । ফলে নিঃশ্বাস নিতেও সমস্যা হয় তাহলে টনসিল অপারেশন করতে হয়।

এছাড়া  যদি  টনসিল গ্রন্থির মধ্যে যদি ফোঁড়া হয় , তাহলে টনসিল অপারেশন করতে হয়।

যদি বছরে চার পাঁচ বারের বেশি টনসিলে ইনফেকশন হয় এবং অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া সত্বেও বার বার ইনফেকশন ফিরে আসে ,তাহলে টনসিল কেটে বাদ দিয়ে দেওয়ায় শ্রেয় । 

টনসিল অপারেশন করলে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে , ফলে রোগের বাসা বাঁধবে , এমনটা কিন্তু নয়। বরং বার বার ইনফেকশন হতে থাকলে সেটা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে । ফলে কিডনিতে , কানে ইনফেকশন ছড়িয়ে যেতে পারে । এ ছাড়াও অন্যান্য নানান সমস্যা হতে পারে । টনসিল ছাড়াও আমাদের শরীরে আরো তিনশোর বেশি অধিক গ্রন্থি আছে , যারা আমাদের দেহে বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই , আমাদের শরীরকে রোগ মুক্ত রাখে । তবে যাদের থ্যালাসেমিয়া , ডায়াবেটিস , উচ্চরক্তচাপ প্রভৃতি দীর্ঘ জটিল রোগ তারা টনসিল অপারেশন করতে পারবেন না। তবে এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ বাধ্যতামূলক।

টনসিল স্টোন কি ? কিভাবে স্টোন তৈরী হয় ?

টনসিল গ্রন্থি লসিকা কলা বা লিম্ফয়েড টিসু দিয়ে তৈরী। মুখ গহ্বরের মধ্যে ঝিল্লি দ্বারা এটি আবৃত থাকে। শিশুর জন্মের সময় এটি ছোট থাকে , আস্তে আস্তে শিশুর বৃদ্ধির সাথে সাথে এটি আকারে বড় হতে থাকে পাঁচ বছর পর্যন্ত । তারপর ধীরে ধীরে এটি ছোট হতে থাকে। 

টনসিল গ্রন্থির গায়ের  ওপর খাবারের অতি ক্ষুদ্র কণা , ব্যাকটিরিয়া , ত্বকের মৃত কোষ ও অন্যান্য উপাদান টনসিলের গায়ের ক্ষুদ্র ছিদ্র অংশে আটকে থেকে  টনসিলের গায়ে জমে শক্ত পাথরে পরিণত  হয় তাকে টনসিল স্টোন বলে । এটা দেখতে ছোট ছোট জমাট বাঁধা চিনির দানার মত হালকা হলুদ অথবা সাদা রঙের হয়। 

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ হা করলেই মুখ গহ্বরের ভিতর পাথরগুলো দেখতে পাওয়া যায়।

আমরা জানি যে শ্বেত রক্তকণিকা আমাদের দেহে বহিরাগত জীবাণুর সাথে লড়াই করে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে । টনসিলের লিম্ফ নোড এ শ্বেত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়ে থাকে । টনসিলের গায়ে কোনো কারণবশত খাদ্যকণা, শ্লেষ্মা ও অন্যান্য কণা আটকে গেলে জমতে জমতে সেখানে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে থাকে ও ক্যালসিয়াম শোষিত হতে থাকে। সেগুলি ধীরে ধীরে একটি শক্ত স্তূপে পরিণত হয় । ধীরে ধীরে এটি বাড়তে থাকে । এইভাবেই টনসিলে পাথর জমে বা টনসিলে পাথর হয় তৈরী হয়

টনসিল স্টোন
টনসিল স্টোন

কি করে বুঝবেন আপনার টনসিলে পাথর হয়েছে ?

  • টনসিল গ্রন্থির গাত্রে জমা পাথরে  ব্যাকটেরিয়া বংশ বৃদ্ধি । তোর সাথে হাইড্রোজেন সালফাইড , মিথাইল মারকেপটন ও অন্যান্য কেমিক্যাল থাকার জন্য মুখে দুর্গন্ধ হয়।
  • সবসময় গলায় মাছের কাঁটা আটকে বিঁধে আছে মনে হয়।
  • গলায় ব্যথা হয় । সাথে জল , খাবার গিলতে গেলে যন্ত্রণা হয় ।
  • মুখ হা করে খুললে দেখতে পাবেন , জিহ্বার ঠিক প্রান্তে টনসিলের গায়ে সাদা সাদা দানা দানা মত পাথর জমে আছে।

টনসিল স্টোন হলে কি করবেন ?

টনসিলে পাথর অল্প স্বল্প পাথর জমলে আপনি নিজেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ হা করে টুথ ব্রাশের মাথার উল্টো পিঠ দিয়ে সামনের দিকে হালকা চাপ দিলে পাথর বেরিয়ে যাবে।

এ কটন বাডস দিয়ে হালকা করে সামনের দিকে চাপ দিলে পাথর বেরিয়ে যায়।

খুব বেশি পাথর জমে আপনার অসুবিধা করে ,এবং অধিক সমস্যায় ভোগেন । তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে গিয়ে পাথর অপসারণ করে আসুন।  

কি করে বুঝবেন আপনার টনসিল বেড়েছে ?

  • টনসিল ফুলে গেলে তীব্র গলাব্যথা হবে।
  •  ১০৩-১০৪ ডিগ্রী তাপমাত্রায় জ্বর আসতে পারে।
  •  জ্বরের সাথে  মাথাব্যথা হয়

 খাবার খেতে কষ্ট হয় , গিলতে কষ্ট হয় , মুখ হাঁ করে খুলতে অসুবিধা হয়।

  • এ ছাড়াও কানে ব্যথা হতে পারে।
  • বাচ্চাদের  মুখ দিয়ে লালা বের হয় তার সাথে কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যেতে পারে। যখন  তীব্র ইনফেকশন হয় তখন বাচ্চাদের মধ্যে লালা বের হতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে গিয়ে  ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্চাকে  ওষুধ খাওয়াবেন ।
  •  পড়া চিকিৎসকের উপদেশ অনুযায়ী নিয়মিত ভাবে এবং সঠিক সময়ে ঔষধ সেবন করলে এ সমস্যা হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
  • কণ্ঠ নালীর পাশে ঘা হওয়ার জন্য  মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে ।

টনসিলাইটিস এবং স্ট্রেপ থ্রোট কি একই ?

টনসিলাইটিস এবং স্ট্রেপ থ্রোট এক নয়।

টনসিলে ইনফেকশন দুভাবে হয় – ব্যাকটিরিয়ার কারণে এবং ভাইরাসের কারণে ।

Group A স্ট্রেপটোকোক্কাপ ব্যাকটিরিয়ার কারণে 

স্ট্রেপটোকোকাল ফ্যারিঞ্জাইটিস বা স্ট্রেপ থ্রোট হয়।

Group A হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকোকাস ব্যাকটিরিয়ার কারণেও স্ট্রেপ থ্রোট হয়।

টনসিলাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি, ঘনিষ্ঠ সংষ্পর্শ থেকে স্ট্রেপ থ্রোটে আক্রান্ত হয়।

হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকোকাস স্ট্রেপ থ্রোট এ আক্রান্ত যদি একত্রে ভীড় করে তখন এই রোগ খুব সহজেই বিস্তার লাভ করতে পারে।

ব্যাকটিরিয়াল টনসিলাইটিস জটিল হয় । এটি খুবই  বিরল , যা ছোটো বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। শিশুদের মধ্যে বাত জ্বর বা রিউমেটিক ফিভার দেখা যায় , এতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে ,সাথে জয়েন্টে ব্যথা হয়।

এ ছাড়াও বাচ্চাদের মধ্যে স্কারলেট ফিভার হয়। এটিও খুবই বিরল।

 কিডনি ফুলে যায় , বমি হয় যাকে গ্লোমেরুলোনেফিরিটিস বলে।  এগুলি সবই জটিল এবং বিরল রোগের মধ্যে পড়ে ।

ভাইরাল টনসিলাইটিস এত জটিল হয় না ।

৭০% ভাইরাল টনসিলাইটিস ভাইরাল  ইনফেকশনের কারণে টনসিলাইটিস হয়।

 সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে হয়। এ ছাড়াও রাইনো ভাইরাস , হেপাটাইটিস এ , এইচ আই ভি ভাইরাস থেকেও হতে পারে ।

টনসিল কি ছোঁয়াচে ?

টনসিলে আক্রান্ত ব্যক্তি বা বাচ্চার কাশি , হাঁচি অথবা চুম্বনের মাধম্যে টনসিলাইটিসের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। এ ছাড়াও একই গ্লাস বা বাসনপত্র ব্যবহার করলে ও টনসিলাইটিসের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। সেইজন্য টনসিল অবশ্যই ছোঁয়াচে । তাই টনসিলে ইনফেকশন হলে টনসিলে আক্রান্তের ব্যবহার্য বাসনপত্র ও হাঁচি কাশি থেকে দূরে থাকুন।

টনসিলাইটিস খুবই সাধারণ ব্যাপার । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অ্যাকিউট টনসিলাইটিস  হয়ে থাকে। তবে ক্রনিক টনসিলাইটিস হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান। শীতকালে বাচ্চা যাতে বেশি ঠাণ্ডা না লাগায় ,গলা ব্যথা , গিলতে অসুবিধা হলে সেদিকে বিশেষ নজর দিন।‌ বড়দের ক্ষেত্রেও বেশি ঠাণ্ডা না লাগানো , প্রত্যেকবার খাবার খাওয়া শেষে ভালো করে কুলকুচি করা এসব সামান্য বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন। তাহলেই শীতকালে টনসিলের ব্যথা কাবু করতে পারবে না।

ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করেও যদি টনসিলের ইনফেকশন না সারে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিন। 

তথ্যসূত্র:

প্রথম আলো , আনন্দবাজার পত্রিকা , কোরা,risingbd.com, brightside, মেডিক্যাল নিউজ টুডে ও অন্যান্য